ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী মোল্লা আব্দুল গনি বারাদার বলেছেন, “আফগানিস্তান কাউকে ক্ষতি করতে চায় না এবং কারও দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হতেও চায় না। তবে যদি কেউ কু-উদ্দেশ্য পোষণ করে, তাহলে বিলম্ব না করেই তার জবাব দেওয়া হবে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, এই দেশ কোনো মিষ্টি লোকমা নয়; বরং এটি একটি যাক্কুম গাছ, যা প্রাচীন সাম্রাজ্যগুলোর কণ্ঠ তিক্ত করে দিয়েছে এবং যা সদ্যোজাত শিশুরাও কখনো হজম করতে পারে না।”
রাজধানী কাবুলে ন্যাশনাল ডিফেন্স ইউনিভার্সিটি “আবু উবাইদা ইবন আল-জাররাহ”-এর ১৭তম ব্যাচের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মোল্লা বারাদার বলেন, আফগানিস্তান সব দেশের সঙ্গে ইতিবাচক ও উপযুক্ত সম্পর্কে বিশ্বাস করে। অর্থনীতি-কেন্দ্রিক নীতির কাঠামোর মধ্যে আফগানিস্তানের ইসলামী আমিরাত আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারিত্বকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে।
তিনি বলেন, “আমরা আমাদের নীতিমালার কাঠামোর মধ্যে সব দেশের সঙ্গে উপযুক্ত সম্পর্কে অঙ্গীকারবদ্ধ। দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ নিশ্চিত করতে হলে দেশগুলোর একে অপরের মূল্যবোধ ও সংবেদনশীল সীমার প্রতি সম্মান দেখানো প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, আফগানিস্তান অন্য কোনো দেশের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে না এবং অন্য দেশগুলোর কাছ থেকেও একই মনোভাব প্রত্যাশা করে।
অনুষ্ঠানে ইমারাতে ইসলামিয়ার আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বক্তব্য দেন। তাঁদের মধ্যে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী এবং সীমান্তমন্ত্রীও ছিলেন। তাঁরা দেশের বর্তমান ব্যবস্থা সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম উল্লেখ না করে সীমান্ত ও গোত্রবিষয়ক মন্ত্রী নূরুল্লাহ নূরী বলেন, “যদি কেউ সামরিক ঘাঁটি চায়, তাহলে তাকে সামরিক ঘাঁটি দেওয়া হয়; যদি সে সেনাবাহিনী চায়, তাহলে সেনাবাহিনী দেওয়া হয়। এটি দাসত্বের নিদর্শন। আল্লাহর প্রশংসা যে আফগানিস্তানে একটি ইসলামী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং আফগানিস্তান তার নীতিনির্ধারণে স্বাধীন।”
অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, জাতীয় ঐক্য জোরদার করা, ইসলামী শরিয়াহ বাস্তবায়ন এবং বর্তমান ব্যবস্থা সুরক্ষিত রাখা; এই বিষয়গুলোও ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন।
সূত্র: তোলো নিউজ











