গত সপ্তাহে ভারতের মধ্যপ্রদেশের দামোহের গঙ্গা-যমুনা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ফলাফল প্রকাশিত হয়। স্কুল কর্তৃপক্ষ টপারদের ছবি ও নাম সম্মিলিত একটি পোস্টার প্রকাশ করে যা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ‘দ্য কেরালা স্টোরি’-র সঙ্গে তুলনা করে এ পোস্টারটিকে ‘দামোহ স্টোরি’ নামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম জুড়ে প্রচার করছে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা।
পোস্টারে ১৫ জন বালিকার হিজাব পরিহিতা ছবি রয়েছে। তবে এর মধ্যে ৪ জন হিন্দু বালিকা রয়েছে বলে দাবি করেছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) ও হিন্দু জাগরণ মঞ্চ এবং ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। যার দরুন স্কুলটির স্বীকৃতি বাতিল করেছে মধ্যপ্রদেশ সরকার।
উগ্রপন্থী এসব সংগঠনগুলির দাবি অমুসলিম ছাত্রীদের হিজাব পড়তে বাধ্য করছে স্কুলটি।
এবিষয়ে স্কুলটির কর্তৃপক্ষ পোস্টারটির বিষয়ে নিশ্চিত করে জানায়, “হেডস্কার্ফ বা হিজাব স্কুলের ড্রেস কোডের একটি অংশ।”
হিজাব পরা নিয়ে হিন্দু ছাত্রীদের পরিবারের তরফে কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও গণমাধ্যমকে হেডস্কার্ফ বা হিজাব স্কুলের ড্রেস কোডের একটি অংশ বলে জানিয়েছেন।
পোস্টারটি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় তা খতিয়ে দেখার জন্য তদন্তের নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক। তদন্তের রিপোর্টে বলা হয়েছে, “ইচ্ছা করে হিজাব পরানো হয়েছে বলে স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সঠিক নয়।”
রিপোর্ট প্রকাশের পর তদন্তে জড়িত থাকা এক সরকারি কর্মকর্তাকে আক্রমণ করে সন্ত্রাসীরা। এ সময় তারা “জয় শ্রীরাম” শ্লোগান দিচ্ছিল।
এর পূর্বে এই স্কুলের ২ জন শিক্ষিকা ও ৩ জন শিক্ষার্থী স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করে। এ বিষয়টিকে পুঁজি করে রীতিমতো স্কুলটির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েছে মধ্যপ্রদেশের বিজেপির সভাপতি ভি ডি শর্মা।
শর্মা বলেন, “দামোহের গঙ্গা-যমুনা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ইতিপূর্বে হিন্দু মেয়েদের ধর্মান্তরিত করা হয়েছিল। তারা একটি বৃহত্তম নেটওয়ার্ক যারা বাইরে থেকে আর্থিক সহায়তা পাচ্ছে। তাই এটিকে নিছক লাভ জিহাদের ঘটনা বলা যাচ্ছে না।”
উল্লেখ্য; এ ঘটনার পর স্কুলটির স্বীকৃতি বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর শিবরাজ সিংহ চৌহানের সরকার। যদিও তারা স্বীকৃতি বাতিলের জন্য হিজাব সংক্রান্ত কোনো বিষয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেনি। তবে জেলা শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় বেশ কয়েকটি সুযোগ-সুবিধা পর্যাপ্ত পরিমাণে না থাকায় স্কুলের স্বীকৃতি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
সূত্র: মুসলিম মিরর











