ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় শক্তিশালী, পেশাগতভাবে প্রশিক্ষিত এবং আধুনিক সরঞ্জামে সজ্জিত সেনাবাহিনী প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মাওলানা ফাসিহউদ্দিন ফিতরাত। তিনি বলেছেন, অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক হুমকি মোকাবিলায় আফগান সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। দেশের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখতে সামরিক শক্তি অপরিহার্য।
ফিতরাত বলেন, মুজাহিদীনদের দীর্ঘদিনের সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। এই স্বাধীনতা ধরে রাখতে উন্নত অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত এবং যথাযথ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্যদের নিয়ে একটি আধুনিক সামরিক বাহিনী গড়ে তোলা প্রয়োজন।
তার মতে, সামরিক বাহিনীকে শক্তিশালী করার উদ্দেশ্য প্রতিবেশী দেশগুলোকে হুমকি দেওয়া কিংবা অন্য দেশের ভূখণ্ড সম্প্রসারণ করা নয়। বরং আগ্রাসন, চাপ ও বিদেশি হস্তক্ষেপ থেকে আফগানিস্তানকে সুরক্ষিত রাখাই এর লক্ষ্য।
তিনি বলেন, একটি সক্ষম সশস্ত্র বাহিনী ইমারাতে ইসলামিয়াকে দেশের নিরাপত্তা বজায় রাখতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে আফগান জনগণের শান্তিপূর্ণ জীবনযাপনের পরিবেশ নিশ্চিত করবে।
মাওলানা ফিতরাত একটি স্বাধীন ও পেশাদার সামরিক বাহিনী গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় বিদেশি সহায়তার ওপর নির্ভরশীলতার কারণে সাবেক আফগান জাতীয় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সমালোচনা করেন তিনি।
তিনি বলেন, সাবেক সামরিক বাহিনীর স্বাধীনভাবে কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা ছিল না। আন্তর্জাতিক বাহিনী প্রত্যাহারের পর ওই বাহিনীর পতনের জন্য সাবেক সরকারের কর্মকর্তাদের দায়ী করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সামরিক ও অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা ইমারাতে ইসলামিয়ার অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। আফগানিস্তান অন্যান্য দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে নিজেদের অর্থনীতি কিংবা প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর বিদেশি নিয়ন্ত্রণ মেনে নেবে না।
পাকিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনা প্রসঙ্গে সীমান্ত ক্রসিংগুলোতে বিধিনিষেধ আরোপের জন্য ইসলামাবাদের সমালোচনা করেন তিনি। তিনি অভিযোগ করেন, আফগানিস্তানের রপ্তানির মৌসুমে পাকিস্তান সীমান্তপথ বন্ধ করে দেয়, অথচ আমদানির প্রয়োজন হলে আবার তা খুলে দেয়।
তিনি বলেন, ইমারাতে ইসলামিয়া এসব বিধিনিষেধের জবাব দিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের চাহিদা পূরণে আফগানিস্তান অন্য কোনো দেশের ওপর নির্ভরশীল থাকবে না।
মাওলানা ফিতরাত আরও বলেন, আফগানিস্তান টানা পাঁচ বছর ধরে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রেখেছে এবং বিভিন্ন খাতে অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে কিছু দেশ এই অগ্রগতি মেনে নিতে চায় না বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সশস্ত্র বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, বিদেশি নির্দেশনায় কাজ করছে বলে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাদের আফগানিস্তানে ফিরে এসে বিচারিক কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, যারা দেশে ফিরে আসবে, তারা সম্মানের সঙ্গে বসবাস করতে পারবে। তবে যারা সশস্ত্র তৎপরতা অব্যাহত রাখবে, তাদের দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর মোকাবিলা করতে হবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে জননিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি কিংবা সাধারণ আফগানদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করতে দেওয়া হবে না।
বাদাখশান প্রদেশে বিরোধী যোদ্ধাদের তৎপরতা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন প্রসঙ্গে তিনি সেখানে তাদের উপস্থিতির কথা অস্বীকার করেন। প্রদেশটির পার্বত্য এলাকায় যোদ্ধাদের উপস্থিতি দেখিয়ে প্রচারিত বক্তব্য ও ভিডিও ফুটেজও প্রত্যাখ্যান করেন তিনি।
তিনি বলেন, বাদাখশানে বিরোধী তৎপরতার প্রমাণ হিসেবে প্রচারিত কিছু ভিডিও ফুটেজ আসলে পাকিস্তানের চিত্রাল অঞ্চলে ধারণ করা হয়েছে।
ফিতরাত জোর দিয়ে বলেন, বাদাখশানের পাহাড়ি এলাকায় কোনো বিরোধী যোদ্ধা নেই। একই সঙ্গে তিনি জানান, আফগানিস্তানের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা বাহিনী সারা দেশে সক্রিয় রয়েছে।
বিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে তিনি মূলত প্রতীকী সংগঠন হিসেবে অভিহিত করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এসব গোষ্ঠীর সদস্যরা পাকিস্তানে অবস্থান করছে এবং বিদেশি প্রভাবের অধীনে কাজ করছে।
জনগণকে আশ্বস্ত করে ফিতরাত বলেন, নিরাপত্তা হুমকি প্রতিরোধ এবং দেশের জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সশস্ত্র বাহিনীর কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
সূত্র : আরিয়ানা নিউজ











