আদালতে হাজিরা দেওয়ার সময় হাইকোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে গ্রেফতার করা হলো পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর প্রধান ইমরান খানকে।
মঙ্গলবার (৯ মে) জামিনের জন্য ইসলামাবাদ হাইকোর্ট পৌঁছলে তৎক্ষনাৎ দেশটির অন্যতম একটি সশস্ত্র বাহিনী ‘পাকিস্তান রেঞ্জার্স’ তাকে গ্রেফতার করে।
জানা যায়, বিভিন্ন দুর্নীতির মামলা ও পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বক্তব্য প্রদানের অভিযোগসহ মোট ৭টি মামলায় জামিনের জন্য তিনি ইসলামাবাদ হাইকোর্টে গিয়েছিলেন।
আদালত প্রাঙ্গণে পৌঁছার সাথে সাথেই চারপাশে ওত পেতে থাকা পাকিস্তান রেঞ্জার্সের বড় একটি টিম তৎক্ষনাৎ তাকে গ্রেফতার করে একটি গাড়িতে করে প্রথমে ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টিবিলিটি ব্যুরো (এনএবি)-এর ইসলামাবাদ অফিসে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে সেখান থেকে তাদের গাড়ি রাওয়ালপিন্ডির কার্যালয়ের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। আর বলা হয় অতিশীঘ্রই তাকে এনএবির আদালতের মুখোমুখি হতে হবে।
অপরদিকে ইমরান খানের আইনজীবী ইসলামাবাদ হাইকোর্টের চীফ জাস্টিস আমের খানের কাছে কোনো ধরণের ওয়ারেন্ট ছাড়া আদালত প্রাঙ্গণে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনায় যথাবিহিত পদক্ষেপ নেওয়ার আরজি পেশ করেন বলে জানা যায়। এসময় তার মক্কেল ইমরান খানের উপর রেঞ্জার্স বাহিনী চড়াও হয় বলেও হাইকোর্টে অভিযোগ করেন তিনি।
এই ঘটনায় চীফ জাস্টিস আমের খান ১৫ মিনিটের মধ্যে ইসলামাবাদের আইজিপি, স্বররাষ্ট্র সচিব ও অতিরিক্ত অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলকে হাইকোর্টে উপস্থিত হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ জারি করেন। অন্যথায় পাক প্রধানমন্ত্রী সহ পুরো মন্ত্রী পরিষদকে বিচারের আওতায় নিয়ে আসার ধমকি দেন তিনি।
আইজিপি ও স্বররাষ্ট্র সচিবকে প্রথমে পাওয়া না গেলেও শেষ মুহুর্তে তারা হাইকোর্টে এসে হাজির হোন। আদালতের দারস্থ হতে আসা দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে কার আদেশে, কোন মামলায় ও কেনো কোনো ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেফতার করা হয়েছে এসব প্রশ্নের জবাব দেন।
তারা জানান, ইমরান খানের বিরুদ্ধে এনএবির পক্ষ থেকে ১ মে ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছিলো। আল কাদের ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় এনএবির পক্ষ থেকে তাকে গ্রেফতারের আদেশ ছিলো রেঞ্জার্স বাহিনীর উপর।
আর আদালত প্রাঙ্গণে রেঞ্জার্স বাহিনীর ওতপেতে থাকা প্রসঙ্গে বলা হয়, স্বররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসলামাবাদে ক’দিন আগ থেকেই ১৪৪ ধারা জারি করে রেখেছিলেন। তার হুকুম ও এই ধারা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পাকিস্তান রেঞ্জার্স ইসলামাবাদের অন্যান্য জায়গার পাশাপাশি হাইকোর্টেও অবস্থান করছিলো।
ইমরান খানকে ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টিবিলিটি অর্ডিন্যান্স বা জাতীয় জবাবদিহি অধ্যাদেশ ১৯৯৯-এর ধারা ৯-এ এর অধীনে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ৩৪-এ, ১৮-ই, ২৪-এ এর আওতায় তাকে গ্রেফতার করার যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছিলো এনএবি বা নেব।
উল্লেখ্য; ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টিবিলিটি ব্যুরো (এনএনবি) নেব হলো পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসিত এবং সাংবিধানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত একটি ফেডারেল প্রতিষ্ঠান।
এটি অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ ও অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি সাংবিধানিকভাবে যেকোনো ধরণের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষমতা রাখে।
সূত্র: জিও নিউজ










