spot_img
spot_img

পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বাড়ি গুঁড়িয়ে দিচ্ছে দখলদার ইসরাইল

পশ্চিম তীরজুড়ে ফিলিস্তিনিদের মালিকানাধীন ছয়টি বাড়ি এবং একটি কাঠমিস্ত্রির কারখানা গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলি বাহিনী।

সোমবার (৮ জুন) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আনাদোলু।

উত্তর পশ্চিম তীরের বারতাআ শহরের কাউন্সিলের প্রধান গাসসান কাবহার বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, জেনিনের পশ্চিমে ফিলিস্তিনি বাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয় ইসরাইলি বাহিনী। এতে কয়েক ডজন বাসিন্দা বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

তিনি বলেন, শহরটিতে ২০টি বাড়ি ধ্বংসের যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, গুঁড়িয়ে দেওয়া স্থাপনাগুলো তারই অংশ। এসব বাড়ির বিরুদ্ধে ভবন নির্মাণের অনুমতি না থাকার অভিযোগ তোলা হয়েছে।

গাসসান কাবহা বলেন, “অসলো চুক্তির অধীনে এরিয়া সি হিসেবে শ্রেণিভুক্ত এলাকায় অনুমতি ছাড়া নির্মাণের অজুহাতে শহরটির ২০টি ফিলিস্তিনি বাড়ি ধ্বংসের আদেশ দেওয়া হয়। ওই আদেশের বিরুদ্ধে বাসিন্দারা আপিল করেছিলেন। তবে ইসরাইলি আদালত সেই আপিল প্রত্যাখ্যান করেছে।”

তিনি জানান, এসব ধ্বংস অভিযানের ফলে কয়েক ডজন ফিলিস্তিনি গৃহহীন হয়ে পড়েছেন।

এই আগ্রাসনকে তিনি শহরটি থেকে ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের বের করে দেওয়া ও বাস্তুচ্যুত করার লক্ষ্যে পরিচালিত নীতির অংশ বলে নিন্দা জানান।

বারতাআ ইসরাইলি বিচ্ছিন্নতা দেয়ালের পেছনে অবস্থিত। প্রশাসনিকভাবে এটি জেনিন গভর্নরেটের আওতাভুক্ত। এর বাসিন্দারা ফিলিস্তিনি পরিচয়পত্র বহন করেন।

এদিকে দক্ষিণ পশ্চিম তীরে হেবরনের দক্ষিণে খিরবেত কালকাস এলাকায় একটি বাড়ি এবং একটি কাঠমিস্ত্রির কারখানা ভেঙে দিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী।

বাড়ির মালিকের ছেলে আবদুর রহমান আবু স্নেইনেহ বলেন, “ইসরাইলি দখলদার বাহিনী খিরবেত কালকাসে অভিযান চালায় এবং আমাদের দুইতলা বাড়ি ভেঙে দেয়। ওই বাড়িতে পাঁচজন মানুষ থাকতেন।”

তিনি আরও বলেন, “ইসরাইলি বাহিনী আশপাশের জমি ও দেয়ালও বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে, কয়েকটি ফলের গাছ উপড়ে ফেলেছে এবং গ্রামটির একটি কাঠমিস্ত্রির কারখানা ভেঙে দিয়েছে।”

ফিলিস্তিনিদের মতে, ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ ‘এরিয়া সি’-তে অনুমতি ছাড়া নির্মাণকাজ বা জমি পুনরুদ্ধার নিষিদ্ধ করে রেখেছে। অথচ এ ধরনের অনুমতি পাওয়া কার্যত অসম্ভব।

১৯৯৫ সালের অসলো-২ চুক্তির অধীনে দখলকৃত পশ্চিম তীরের প্রায় ৬১ শতাংশ এলাকা ‘এরিয়া সি’ হিসেবে চিহ্নিত। এই এলাকা এখনো সম্পূর্ণ ইসরাইলি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইসরাইলি সরকার একটি পদক্ষেপ অনুমোদন করে। এর ফলে ১৯৬৭ সালের পর প্রথমবারের মতো পশ্চিম তীরের বড় বড় ভূমি রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি হিসেবে নিবন্ধনের সুযোগ পায় ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে দখলকৃত পশ্চিম তীরজুড়ে ইসরাইলি সহিংসতা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, এ সময়ে ১ হাজার ১৬৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১২ হাজার ৬৬৬ জন। গ্রেফতার করা হয়েছে প্রায় ২৩ হাজার জনকে। আর বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ৩৩ হাজার মানুষ।

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটোর

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ