ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানী দিল্লির যন্তরমন্তরে বড় বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। বিক্ষোভ ঘিরে নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে যন্তরমন্তরের আশপাশে ২৪ ঘণ্টার জন্য মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি পুলিশ।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাতে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার রাত ১০টা থেকে শনিবার রাত ১০টা পর্যন্ত জনপথ-কর্তব্যপথ সংযোগস্থলকে কেন্দ্র করে চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকবে।
ককরোচ জনতা পার্টির এই বিক্ষোভ ঠেকাতে দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, ৫৭টি মেট্রো স্টেশনে শুক্রবার রাত ৯টা থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সঙ্গে শনিবার নিউ দিল্লি ও হজরত নিজামউদ্দিন রেলস্টেশন থেকে আসা-যাওয়া করা বেশ কয়েকটি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। প্রায় ২৩ হাজার কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ সদস্যকে দিল্লি পুলিশের সহায়তায় মোতায়েন করা হয়েছে।
ককরোচ জনতা পার্টি জানিয়েছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে শনিবার যন্তরমন্তরে বড় বিক্ষোভ করা হবে। ৭ অক্টোবর দলটির পক্ষ থেকে দিল্লি পুলিশকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিক্ষোভের বিষয়ে জানানো হয়।
এর আগে জুলাইয়ে ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ভারতের তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে তার পদত্যাগের দাবিতে যন্তরমন্তরে দীর্ঘদিন বিক্ষোভ হয়েছিল।
এবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছে ককরোচ জনতা পার্টি ও বিরোধী দলগুলোর বিভিন্ন অংশ। তাদের অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে এবং এর ফলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। দেশজুড়ে প্রায় ১৩ কোটি নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলে বিরোধীরা দাবি করেছে। ভারতীয় সরকার অবশ্য এ ধরনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।











