spot_img
spot_img

খামেনির জানাজা পড়ালেন ১০১ বছর বয়সি ইমাম হোসেইন নূরি হামদানি

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ জানাজা পড়িয়েছেন শিয়া বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ও প্রবীণ ধর্মীয় পণ্ডিত ১০১ বছর বয়সি গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ হোসেইন নূরি হামদানি।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ইরানের পবিত্র নগরী মাশহাদের ইমাম রেজা মাজারে খামেনির দাফন সম্পন্ন করার আগে এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

শতায়ু পেরোনো এই বর্ষীয়ান শিয়া আলেম ও ইসলামি গবেষক মুসলিম বিশ্বে অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং শ্রদ্ধেয় এক ব্যক্তিত্ব হিসেবে সুপরিচিত।

গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ হোসেইন নূরি হামদানি ১৯২৫ সালের মার্চ মাসে ইরানের হামাদান প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন। দীর্ঘ এক শতাব্দীর বেশি সময় ধরে বেঁচে থাকা এই প্রবীণ আলেম ইরানের প্রধান ধর্মীয় কেন্দ্র কোম নগরীতে দীর্ঘদিন শিয়া সম্প্রদায়ের অন্যতম নীতিনির্ধারক ও ধর্মীয় অভিভাবক হিসেবে কাজ করছেন।

ছাত্রজীবনে তিনি আল্লামা তাবাতাবাই এবং গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ বোরুজেরদীর মতো ইসলামি ইতিহাসের বিখ্যাত ও কালজয়ী তাত্ত্বিক পণ্ডিতদের অধীনে সরাসরি শিক্ষা লাভ করেন। তার এই সুদীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি সব সময় ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্র ও খামেনি সরকারের অন্যতম প্রধান এবং কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

বিশেষ করে ১৯৭৯ সালের ঐতিহাসিক ইরানে ইসলামি বিপ্লবের পর, তিনি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ইরানি সম্প্রদায়ের অবস্থা ও ধর্মীয় বিষয়াবলি পর্যালোচনার জন্য সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

দেশের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কাঠামোয় কট্টরপন্থী এবং ঐতিহ্যবাহী শিয়া মূল্যবোধকে রক্ষা করার পেছনেও তার অবস্থান ছিল আপসহীন। শিয়া অনুসারীদের কাছে একজন ‘মারজা’ বা অনুকরণীয় পথপ্রদর্শক হিসেবে খামেনির মৃত্যুর পর বর্তমান ক্রান্তিলগ্নে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংহতি প্রকাশে তিনি অনন্য ভূমিকা পালন করছেন। আর এ কারণেই খামেনির শেষ ইচ্ছা ও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে এই প্রভাবশালী ও প্রবীণ নেতাকে মাশহাদের ঐতিহাসিক জানাজা পরিচালনার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ