মালয়েশিয়ায় আশ্রয় নেওয়া পাঁচ হাজার শরণার্থীকে ফেরত নিতে মিয়ানমার সরকার সম্মতি জানিয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহামাদ হাসান। ফেরত নেওয়ার তালিকায় রোহিঙ্গা শরণার্থীরাও রয়েছেন।
মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বারনামার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তিন মং সুয়ের সঙ্গে সাম্প্রতিক এক বৈঠকে শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন মোহামাদ হাসান।
সোমবার (১০ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমি যখন মিয়ানমারের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করি, তখন তারা জাহাজে করে এই পাঁচ হাজার শরণার্থীকে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে। তবে মূল বিষয় হলো, এই পাঁচ হাজার মানুষের নিরাপত্তা।”
মোহামাদ হাসান বলেন, মিয়ানমারের শরণার্থী সংকটকে কেবল রোহিঙ্গা ইস্যু হিসেবে দেখা উচিত নয়। দেশটির চিন ও কারেনসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর অনেক মানুষও সংঘাত ও সহিংসতার কারণে শরণার্থীতে পরিণত হয়েছেন।
এর আগে গত জুলাইয়ের শেষ দিকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছিলেন, দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পর মালয়েশিয়ায় বসবাসরত প্রাথমিকভাবে পাঁচ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ফেরত নিতে সম্মত হয়েছে মিয়ানমার।
মিয়ানমারের প্রধানত মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গারা দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্য, নিপীড়ন ও রাষ্ট্রহীনতার শিকার। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সহিংস অভিযানের পর কয়েক লাখ রোহিঙ্গা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়।
তাদের মধ্যে ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। বিপজ্জনক সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে আরও অনেকে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন।










