ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে ভারতীয় সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান স্পষ্ট করে বলেছেন, সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে তিনি কোনো দেশের জাতীয় স্বার্থের প্রতিনিধি নন। তিনি বলেন, ‘আমি এখানে কোনো জাতীয় কাজ নিয়ে আসিনি।’
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সদর দফতরে দায়িত্ব গ্রহণের আগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পিটিআইয়ের এক সাংবাদিক জানতে চান, আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কিংবা বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধি দল অংশ নেবে কি না। জবাবে ড. খলিলুর রহমান বলেন, তিনি ওই সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে কথা বলছেন। দ্বিপাক্ষিক বিষয় থাকলে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে আলাদাভাবে কথা বলবেন।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে তাঁর ভূমিকা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের চেয়ে আলাদা। এই দায়িত্বে তিনি কোনো নির্দিষ্ট দেশের পক্ষ নেবেন না। বরং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সংলাপ, সহযোগিতা ও সমঝোতার জায়গা তৈরিতে কাজ করবেন।
জাতিসংঘের সঙ্গে নিজের দীর্ঘ সম্পৃক্ততার কথাও তুলে ধরেন তিনি। খলিলুর রহমান বলেন, তিনি জাতিসংঘকে কখনো প্রতিনিধি হিসেবে, আবার কখনো কর্মী হিসেবে কাছ থেকে দেখেছেন। ফলে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম ও জটিলতা সম্পর্কে তাঁর বিস্তৃত অভিজ্ঞতা রয়েছে।
তিনি বলেন, জাতিসংঘকে তিনি প্রতিনিধি হিসেবে দেখেছেন এবং কর্মী হিসেবেও দেখেছেন। এ কারণে তিনি প্রতিষ্ঠানটিকে ‘৩৬০ ডিগ্রি কোণ’ থেকে প্রত্যক্ষ করেছেন বলে উল্লেখ করেন।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের ‘ইউএন৮০’ উদ্যোগের প্রতিও সমর্থন অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি। একইসঙ্গে জাতিসংঘে আস্থা ফিরিয়ে আনতে গভীর ও অর্থবহ সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।
সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ড. খলিলুর রহমান বলেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তাঁকে ভারসাম্য ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে। কোনো দ্বিপাক্ষিক বা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সমস্যা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজার চেষ্টা করবেন তিনি।
বিশ্বের বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সংলাপ ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, সব সমস্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব না হলেও গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে অভিন্ন জায়গা খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। এ সময় বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরেন ড. খলিলুর রহমান। এ সংকট সমাধানে জাতিসংঘের কার্যকর ভূমিকার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
এর আগে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সদর দফতরে সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের সমাপ্তি পর্ব শেষে ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে শপথ নেন ড. খলিলুর রহমান। এর মধ্য দিয়ে আগামী এক বছরের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের নেতৃত্বে এলেন বাংলাদেশের এই কূটনীতিক। তিনি জার্মানির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবকের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।












