ভারতের হায়দরাবাদের সংসদ সদস্য ও অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই ইত্তেহাদুল মুসলিমীনের (এআইএমআইএম) সভাপতি আসাদ উদ্দিন ওয়াইসি বলেছেন, ভারতীয় মুসলমানরা প্রতিনিয়ত হুমকির মধ্যে বস-বাস করছে। এমন কোন মাস নেই যে তাদের জীবনের উপর হুমকি আসে না।
গত বৃহস্পতিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ভারতীয় সংসদে বক্তৃতা প্রদান কালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, সম্প্রতি ভারতীয় সাংসদদের একজন সদস্য মুসলিম সম্প্রদায়কে বয়কট করতে বলেছেন। এছাড়াও অন্য একজন সদস্য ছুরি ব্যবহার করতে বলেছেন শুধু সবজি কাটার জন্য নয়, মানুষের গলা কাটার জন্যও। মুসলমানদের রং হওয়ায় গুলবার্গা রেলওয়ে স্টেশনের সবুজ রং পরিবর্তন করা হয়েছে।
আমি নরেন্দ্র মোদিকে এখন জিজ্ঞেস করতে চাই, তারা কি এবার ভারতের পতাকা থেকেও সবুজ রং সরিয়ে দেবে ?”
তিনি আরো বলেন, “এবার হয়ত মোদী সরকার তরমুজ বিক্রি নিষিদ্ধ করবে কারণ তা সবুজ রঙের।”
বিলকিস বানুর বিষয়ে তিনি বলেন, “বিলকিস বানু গত ২০ বছর ধরে লড়াই করে আসছে। সে যদি মুসলিম না হত তাহলে অবশ্যই ন্যায়বিচার পেত। আপনি তার বিচার করতে চান না কারণ তার নাম বিলকিস বানু।”
তিনি আরো বলেন, “সংখ্যালঘুদের জন্য বরাদ্দ বাজেট পূর্বের বছরের তুলনায় ৪০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। কারণ নরেন্দ্র মোদির সরকার কখন চায় না মুসলিম শিশুরা শক্তিশালী হোক ও দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাক। তার সরকার চায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় দারিদ্র্য ও বৈষম্যের শিকার হোক।
আদানী গ্রুপের বিষয়ে হিন্ডেনবার্গ গবেষণা নিয়ে তিনি বলেন, “এ তদন্ত প্রতিবেদন যদি হিন্ডেনবার্গ থেকে না হয়ে ভারতে হত তাহলে এটা নিশ্চিত যে এটি কঠোর নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হত।”
এছাড়াও ওয়াইসি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার ১৯% শতাংশ সংখ্যালঘু হওয়া সত্ত্বেও রাষ্ট্রপতির ভাষণে তাদের বিষয়ে কোন কথা বলা হয় নি।
সর্বশেষে তিনি বলেন, “আমি একজন মুসলিম। আমাকে ছাড়া এই দেশ গঠন সম্ভব নয়। আমি কোনভাবেই এদেশে জিম্মি বা বন্দী নই। আমি আমার নাগরিকত্বের পূর্ণ অধিকার চাই।”
সূত্র : পিও











