spot_img

নেতানিয়াহু সরকার আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি: হাকান ফিদান

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নীতি ও সরকার ইসরাইল, মধ্যপ্রাচ্য এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য বোঝা ও হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) আবুধাবিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

ফিদান বলেন, ‘নেতানিয়াহু সরকারের নীতিগুলো শুধু আমাদের জন্যই সমস্যা নয়। তার নীতি ও সরকার ইসরাইলের জন্য বোঝা, এ অঞ্চলের জন্য বোঝা এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য বোঝা ও হুমকি।’

তুরস্কা ও ইসরাইলের মধ্যকার পাল্টাপাল্টি বক্তব্য প্রকাশ্য সংঘাতে রূপ নিতে পারে, এমন সম্ভাবনা নাকচ করে দেন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রকাশ্য সংঘাতে জড়ানোর কোনো কারণ নেই।’

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগানকে শান্তি ও প্রজ্ঞার নেতা উল্লেখ করে ফিদান বলেন, তিনি কোনো উসকানির ফাঁদে পা দেবেন না।

ফিদান বলেন, ইউরোপীয় নেতারা ইসরাইলের বিপদ উপলব্ধি করতে শুরু করলেও এখনো এই সমস্যা মোকাবিলার কার্যকর উপায় খুঁজে পাননি। তবে সিরিয়ায় চলমান অগ্রগতিকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা পরিস্থিতি বদলে দিতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।

তিনি বলেন, উপসাগরে চলমান যুদ্ধের কারণে গাজ্জা উপত্যকা থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ সরে গেছে। ফিলিস্তিনিরা যেন আরও বেশি আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা পেতে পারে, সে জন্য ইসরাইলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

আঞ্চলিক বিরোধে মধ্যস্থতা করার ক্ষেত্রে তুরস্কের বিশেষ অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন ফিদান।

তিনি বলেন, ‘আমরা সবাইকে চিনি এবং প্রতিটি সংঘাতের গতিপ্রকৃতি জানি। তাই আমি মনে করি, আসলে কী ঘটছে এবং সংঘাত বন্ধ করতে কীভাবে সহায়তা করা যায়, তা বোঝার জন্য আমরাই সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এমন একটি পরিস্থিতিতে ফিরে যেতে হবে, যেখানে প্রতিটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা পুরোপুরি স্বীকৃত থাকবে।’

হাকান ফিদান বলেন, ইরান দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, বিভিন্ন দেশে প্রক্সি বা মিত্র গোষ্ঠী রাখার মাধ্যমে তারা যে নীতি অনুসরণ করেছে, সেটি ছিল আগাম প্রতিরোধমূলক নিরাপত্তানীতি। একইভাবে ইসরাইলও নিরাপত্তার অজুহাতে এ অঞ্চলের বাকি অংশ দখল করে রেখেছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা যদি নিরাপত্তা সম্পর্কে এমন একটি নতুন ধারণায় পৌঁছাতে পারি, যা এ অঞ্চলের প্রত্যেক পক্ষের নিরাপত্তা, রাজনৈতিক সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা নিশ্চিত করবে, তাহলে ইরানকে বলা সম্ভব হবে, দেখুন, আমরা নিজ নিজ অবস্থানে ফিরে যেতে পারি।’

ইরান ‘এসব বাস্তবতা বোঝার মতো যথেষ্ট পরিণত’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ফিদান বলেন, ‘আশা করছি, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে একটি শান্তিচুক্তি হলে আমরা সত্যিকার অর্থে সুস্থ ও কার্যকর আলোচনা শুরু করতে পারব।’

সূত্র: আনাদোলু

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ