ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তরের সিনিয়র সহসভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেছেন, আমাদের দেশের রাজনীতি নিয়ে ইতিমধ্যে নেতিবাচক আলোচনা-পর্যালোচনা শুরু হয়েছে। অথচ অনস্বীকার্য যে, আমাদের রাজনীতির ইতিবাচক দিকটি অনেক ব্যাপৃত এবং আমাদের রাজনীতির অর্জনও কম নয়। কিন্তু তারপরও দুঃখজনকভাবে দেশের রাজনীতিতে যে দুর্বৃত্তায়ন চলছে তাতে রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন ছাড়া মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা হবে না।
শনিবার (১১ মার্চ) সন্ধায় রাজধানীর বিমানবন্দর থানা শাখার থানা সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ক্ষমতাসীনদের সীমহীন স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্নীতি-অস্বচ্ছতা-অনিয়মের কারণে রাষ্ট্র আজ তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিণত হয়েছে। বড় দুই দলের নীতি, আদর্শ, গণতন্ত্রের চর্চা ইত্যাদি নিয়েও নতুন করে কিছু বলার নেই। চরিত্রগত দিক থেকে সবাই এক ও অভিন্ন। কোনও দলই পরিচ্ছন্ন নয়। বিগত দিনে দেশ পরিচালনায় দু দলই দুর্নীতি আর ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় চরমভাবে ব্যর্থ। রাজনীতি করার নৈতিক স্খলন ঘটেছে তাদের।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের বাড়িতে যেভাবে টাকার খনির সন্ধান মিলছে, তাতে রাজনীতির গুণগত পরিবর্তনের বিষয়টি ভিন্ন প্রেক্ষাপটে আলোচনায় এসেছে। অবৈধ টাকা ও ক্ষমতা এ সমাজে কীভাবে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে, এর বহুবিধ নজিরই আমাদের সামনে আছে। ন্যায়বিচার, আইনের শাসন, দুর্নীতি নির্মূল, সুশাসন ইত্যাদি নিয়ে যখন নানা মহলে এত কথা হচ্ছে, তখন উন্মোচিত কদর্যতার দীর্ঘছায়া এ প্রশ্নও দাঁড় করিয়েছে- কীভাবে বিষবৃক্ষের উৎপাটন করা যাবে? এই বিষবৃক্ষ টিকিয়ে রাখার জন্য আরও নানা রকম শক্তি ক্রিয়াশীল।
আনোয়ার হোসেন বলেন, দেশের সচেতন মানুষমাত্রেরই দৃষ্টি এখন রাজনীতির গুণগত পরিবর্তনের দিকে। যদি আগামী নির্বাচনে সত্যিকারার্থেই কাঙ্ক্ষিত ফল লাভের উদ্দেশ্যে গুণগত পরিবর্তন করা যায় তাহলে সমাজ ও রাষ্ট্রে এর ইতিবাচক প্রভাব দৃশ্যমান হয়ে উঠবে বলেই আমরা বিশ্বাস করি। মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ও নির্মোহ অবস্থানের কোনও বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে লুটেরা, টাকা পাচারকারীদের প্রতি কোনোরকম অনুকম্পা প্রদর্শনেরও নেই অবকাশ।










