spot_img
spot_img

প্রস্তাবিত বাজেট উচ্চাভিলাষী ও বাস্তবতাবিবর্জিত: নাহিদ ইসলাম

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের পর প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

সংসদ প্রাঙ্গণে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট অনেকটা উচ্চাভিলাষী ও বাস্তবতাবিবর্জিত। কারণ, এই বাজেটে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। আর আয়ের জন্য ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

নাহিদ ইসলাম বলেন, বর্তমান প্রশাসন ও করকাঠামোর মাধ্যমে এই পরিমাণ রাজস্ব আদায় করা সম্ভব নয়। এই বাজেটে ঘাটতি রয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। সরকার যদি ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করতে না পারে, যা স্বাভাবিকভাবেই পারবে না, তাহলে ঘাটতি আরও বাড়বে। তখন সরকারকে ব্যাংক ও বিদেশি উৎস থেকে ঋণ নিতে হবে।

ঋণনির্ভর বাজেটের কারণে ব্যাংকিং খাত ও বেসরকারি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, সরকার সুন্দর সুন্দর কথা বলছে, ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট দেখাচ্ছে। কিন্তু এই বাজেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘাটতির বাজেটও হবে। একে ঋণনির্ভর বাজেটও বলা যেতে পারে। ফলে সরকার যখন ব্যাংক থেকে আরও ঋণ নেবে, তখন দুর্বল ব্যাংকিং খাতের ওপর আরও ঋণের চাপ তৈরি হবে। এতে বেসরকারি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বেসরকারি খাত সহজে ঋণ পাবে না এবং কর্মসংস্থান সংকুচিত হবে।

বাজেট বক্তৃতায় ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট কথা নেই বলেও অভিযোগ করেন এনসিপির আহ্বায়ক।

তিনি আরও বলেন, আরেকটি বিষয় দেখে আমরা খুবই অবাক হয়েছি। অর্থমন্ত্রীর পুরো বক্তব্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তিনি গণতন্ত্র নিয়ে কথা বলছেন। তার কথা শুনলে মনে হবে, অর্থনীতিতে অনেক বিপ্লব ঘটে যাচ্ছে। কিন্তু তিনি ব্যাংকিং খাত ও অর্থনৈতিক সংস্কার নিয়ে কোনো আলোচনা করেননি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ঋণখেলাপি লুটেরা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সরকার কী ব্যবস্থা নেবে, পাচার হওয়া অর্থ কোন প্রক্রিয়ায় ফেরত আনা হবে, সে বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে কিছু পাওয়া যায়নি। ব্যাংকিং খাত কীভাবে সংস্কার করা হবে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন কীভাবে ঘটানো হবে, সে বিষয়েও কোনো স্পষ্ট বক্তব্য নেই।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ