সাড়ে ১৪ বছরেরও বেশি সময় পার হলেও সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার বিচার না হওয়ায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে তাদের পরিবার।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে পরিবারের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ দায়ের করা হয়।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের নিজ বাসা থেকে সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সাগর মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক এবং রুনি এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলম বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন।
মামলাটি প্রথমে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ তদন্ত করে। চার দিন পর তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার ৬২ দিনের মাথায় ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্টে তদন্তে ব্যর্থতার কথা জানায় গোয়েন্দা পুলিশ। পরে আদালতের নির্দেশে মামলার তদন্তভার পায় র্যাব।
র্যাবের তদন্তকালে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় ১১২ বার পেছানো হলেও দীর্ঘ সময়েও চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।
বর্তমানে হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত টাস্কফোর্সের আওতায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন মামলাটি তদন্ত করছে।
হত্যাকাণ্ডের সময় পশ্চিম রাজাবাজারের ওই ভবনে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন এনাম আহমেদ। পরে র্যাব তাকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
তবে বর্তমান তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, তদন্তে এখন পর্যন্ত এনাম আহমেদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
চলতি বছরের ২২ এপ্রিল আদালতের আদেশে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে তাকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্তসংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি বিভিন্ন প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তর দিতে পারেননি, অনেক কিছু মনে করতে পারছিলেন না এবং এলোমেলো উত্তর দিয়েছেন।
দীর্ঘ সময় ধরে একাধিক সংস্থা মামলাটির তদন্ত করলেও এখনো হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন ও বিচার সম্পন্ন হয়নি। এ অবস্থায় বিচার চেয়ে এবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হলো সাগর-রুনির পরিবার।












