জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আফগানিস্তানকে আন্তর্জাতিক আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় ন্যায্য সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির অর্থনৈতিক বিষয়ক উপ-প্রধানমন্ত্রী মোল্লা আবদুল গনি বারাদার।
দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্যে তিনি বলেন, গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ বা বৈশ্বিক জলবায়ু অবনতিতে আফগানিস্তানের উল্লেখযোগ্য কোনো ভূমিকা না থাকলেও দেশটি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ভোগ করে চলেছে।
মোল্লা বারাদার বলেন, গত বছর ভূমিকম্প, মৌসুমি বন্যা ও খরার কারণে আফগানিস্তান ব্যাপক সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির শিকার হয়েছে। এসব দুর্যোগে প্রাণহানি ও ব্যাপক আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি সরকারি অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জলবায়ু ন্যায়বিচারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, “সমস্যা সৃষ্টিতে আমাদের কোনো ভূমিকা নেই। অথচ অন্যদের সৃষ্ট ধ্বংসের ভয়াবহ পরিণতি আমাদেরই বহন করতে হচ্ছে এবং এর মূল্য দিতে হচ্ছে। বৈশ্বিক জলবায়ু ন্যায়বিচারের নীতির সঙ্গে এটি কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।”
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার প্রচেষ্টায় রাজনৈতিক বিবেচনাকে বাধা হয়ে দাঁড়াতে না দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, জাতিসংঘ এবং জলবায়ু সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানান বারাদার।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন সবাইকে প্রভাবিত করে। তাই কোনো ব্যতিক্রম ছাড়াই বৈশ্বিক জলবায়ু রক্ষা করা সব দেশের অভিন্ন দায়িত্ব।
তিনি জোর দিয়ে আরও বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আন্তর্জাতিক আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় ন্যায্য সুযোগ পাওয়া আফগানিস্তানের অধিকার।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আধুনিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ সরঞ্জাম, দুর্যোগের আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং উন্নত উদ্ধার সরঞ্জাম সরবরাহের মাধ্যমে আফগানিস্তানকে বাস্তব সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে আফগানিস্তানের কারিগরি সক্ষমতা বাড়াতেও সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
মোল্লা বারাদার বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সহনশীলতার মানদণ্ড পূরণ করে এমন ভবন নির্মাণ, পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে মানসম্মত প্রতিরোধ দেয়াল নির্মাণ এবং বনাঞ্চল সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে ইমারাতে ইসলামিয়া গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে। এসব প্রচেষ্টা ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
সূত্র : আরিয়ানা নিউজ











