আজারবাইজানের সাথে বিশেষত জাঙ্গেজুর করিডর স্থাপনের চুক্তি সম্পাদনার মাধ্যমে বৃহত্তর তুরস্ক গঠনের পথে এক ধাপ এগিয়ে গিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান।
মঙ্গলবার (১৩ জুন) রাজধানী বাকুতে আজারী প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভের সাথে বৈঠকের পর একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন তিনি।
এরদোগান বলেন, দক্ষিণ ককেশাসে জাঙ্গেজুর করিডর স্থাপন তুরস্ক-আজারবাইজানের সম্পর্ককে শক্তিশালী করবে। এই করিডর চতুর্পাশ অন্য রাষ্ট্রের সীমানা বেষ্টিত আজারী ভূখণ্ড নাখচিভানকে সরাসরি আজারবাইজানের সাথে সংযুক্ত করবে। আজারবাইজানও পূর্ব তুরস্ক হয়ে সরাসরি আমাদের সাথে যুক্ত হবে। এর মাধ্যমে তুর্কিরা আবারও বৃহত্তর তুর্কি রাষ্ট্র ফিরে পাবে এবং একতা আরো মজবুত হবে।
দু’দেশে তুর্কিয়ে-আজারী বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কাজও শুরু করেছি আমরা। তা নির্মিত হলে আজারবাইজানের যুবকরা খুব সহজেই তুরস্কে পড়তে আসতে পারবেন এবং তুরস্কের যুবকরাও সেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যেতে পারবেন।
পারস্পরিক প্রাকৃতিক শক্তি সহায়তা নিয়েও আমাদের আলোচনা হয়েছে। প্রাকৃতিক শক্তি বিষয়ে ইউরোপ আমাদের সহায়তায় গ্যাস কেনার ক্ষেত্রে আতংকিত! তারা বারবার আমাদের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস ক্রয়ের ব্যাপারে জানতে চাচ্ছে। আমরা আমাদের পুরো প্রক্রিয়া তাদের জানিয়েছি। তাদের আমরা আবারও আশ্বস্ত করছি যে, এক্ষেত্রে আমরা আমাদের অংশের কাজ ভালোভাবেই করবো এবং ভবিষ্যতেও করে যাবো। এর বাইরে অন্যকিছু আমাদের দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত নয়।
অপরদিকে আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ প্রথমে আবারও এরদোগানকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান। আজারী জনগণ এতে অত্যন্ত আনন্দিত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আলিয়েভ বলেন, পুনরায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া আজারবাইজানের জনগণকে অত্যন্ত আনন্দিত করেছে। তুর্কি-আজারীদের মধ্যকার ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক আজারবাইজানকে সাম্প্রতিক সাফল্যগুলো অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
আগামীর দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা, কার্যক্রম ও নীতি নিয়ে আমাদের দু’জনের মতবিনিময় হয়েছে। পররাষ্ট্রনীতিতে আমাদের দু’দেশের অবস্থান একই রকম থাকবে। কেননা আমাদের একতা ও যৌথ প্রচেষ্টা এই অঞ্চলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
এসময় তিনি ২০২১ সালে ‘শুশা পরিকল্পনা’ ঘোষণার মাধ্যমে দু’দেশ একে অপরের আনুষ্ঠানিক মিত্র হয়ে যাওয়ার ঘটনাটি স্মরণ করিয়ে দেন। ২০২০ সালে আর্মেনিয়ার কাছ থেকে নাগোরনো কারাবাখ ফিরে পেতে সামরিক ও রাজনৈতিক সমর্থনের জন্য এরদোগান ও তুরস্কের পুনরায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অঞ্চলের বিস্তৃতি ও বৃহত্তর তুর্কি রাষ্ট্র গঠনে আজারবাইজান ও তুরস্কের ঐক্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
উল্লেখ্য; জাঙ্গেজুর মূলত একটি অঞ্চল যা আজারবাইজান ভূখণ্ডের অংশ ছিলো। কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়ন ১৯২০ সালে এই অঞ্চলটি আর্মেনিয়াকে দিয়ে দেয়। তাই স্থলপথে আজারী ভূখণ্ড নাখচিভানের সাথে তাদের সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
পরবর্তীতে ২০২০ সালে আর্মেনিয়ার সাথে নাগোরনো কারাবাখ যুদ্ধ শেষে সমঝোতা চুক্তির সময় আজারবাইজান নাখচিভানের সাথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের জন্য করিডর করার উদ্যোগ নেয়। করিডরে ৪৩ কিলোমিটার বা ২৬.৭ মাইল মোটর ও রেলপথ নির্মিত হবে যা আর্মেনিয়ার মধ্যদিয়ে সরাসরি নাখচিভানে গিয়ে পৌঁছবে।
সূত্র: আনাদোলু











