spot_img

বিগত ১৬ বছরের সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে হবে : মুফতী ফয়জুল করীম

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতী ফয়জুল করীম বলেছেন, গণহত্যাকারী হাসিনার পুত্র জয় দেশের সংবিধান রক্ষার জন্য এবং তিনমাসের মধ্যে নির্বাচনের দেওযার জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়ে দেশদ্রোহী কাজ করেছে। এজন্য শেখ হাসিনা ও জয়ের বিচার হতে হবে। ভারতের কাছে দেশ ও আওয়ামী লীগের সংবিধান রক্ষার দাবি করে তারা দেশকে ভারতের অঙ্গরাজ্যের পরিচয় দিয়েছে। ভারত বাংলাদেশের সংবিধান এবং নির্বাচন দেওয়ার এখতিয়ার রাখে না।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা বিগত ১৬ বছরে দেশের সম্পদ লুটপাট করেছে, দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করেছে। অনেক মানুষ হত্যা করেছে। বিশেষ করে জুলাই-আগষ্ট মাসে ছাত্র-জনতাকে হত্যা করে মানবতার লঙ্ঘন করেছে। এ জন্য খুনি হাসিনা ও তার দলের সকল খুনিদেরক বিচার করতে হবে।

আজ বুধবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে গণহত্যার বিচার এবং দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মুফতী ফয়জুল করীম বলেন, ৫ আগস্ট ফেরাউনের কবল থেকে দেশবাসী মুক্তি পেয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের আন্দোলন ছিল সকল বৈষম্যের বিরুদ্ধে। এখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিজেরাই যেন বৈষম্য সৃষ্টি না করে, এটা আমাদের দাবি, ছাত্র-জনতার দাবি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বৈষ্যমবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অনেক জীবন ও রক্ত দিয়ে সাথে ছিল। এজন্য কোনও বৈষম্য মেনে নেওয়া হবে না। প্রতিবিপ্লবের চক্রান্ত ছাত্র-জনতা রুখে দিবে।

মুফতী ফয়জুল করীম আরও বলেন, ছাত্র-জনতা জীবন ও রক্ত দিয়ে দ্বিতীয়বার স্বাধীন করেছে দেশ। মানুষ সুখে-শান্তিতে ও নিরাপদের সাথে বসবাস করবে। সকল ধর্মের সংখ্যানুপাতিকহারে চাকুরী নিশ্চিত করতে হবে। সকলক্ষেত্রে বৈষম্য রুখে দিতে হবে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ একটি নির্লজ্জ দল। শেখ হাসিনার পুরো পরিবার দেশ থেকে পালিয়ে গেছে নেতাকর্মীদের ফেলে। এখন আপনারা কোন মুখে শেখ হাসিনার উস্কানীতে পা দিয়ে দেশে নতুন করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন? লজ্জা থাকলে কেউ কোনও দিন আওয়ামী লীগ করতে পারে না। ফেরাউন হাসিনা নিজেদের প্রয়োজনে বার বার সংবিধানকে পরিবর্তন করে সাংবিধানিক সঙ্কট সৃষ্টি করেছে। এখন উপদেষ্টাদেরকে শেখ হাসিনার দেশবিরোধী সংবিধানকে বাতিল করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, পরাজিত ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা মুক্তিকামী মানুষের পক্ষে গিয়ে মানুষ হত্যায় মেতে উঠে। মানুষ গড়ার কারিগর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষকরা ন্যায়ের পক্ষে না থেকে সরকারে সকল অবৈধ কাজকে সমর্থন করে মারাত্মক অন্যায় করেছেন। ফেরাউন হাসিনার কারাগারে অনেক নিরীহ আলেমদেরকে দীর্ঘদিন বন্দি রেখে নির্যাতন করছে। আটককৃত আলেমদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। তিনি শাপলার হত্যা, বিডিআর হত্যার বিচার দাবি করেন। অনেক নিরীহ বিডিআরকে বিনা বিচারে কারারুদ্ধ করা হয়েছে- তাদের মুক্তি দিতে হবে।

সংখ্যালঘু নির্যাতন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংখ্যালঘুরা এদেশে নির্যাতিত হয়নি। দেশের ৯৯ ভাগ হিন্দু আওয়ামী লীগ করে এবং আওয়ামী লীগের সকল অন্যায়কে তারা সমর্র্থন করেছে। অতীতে মন্দিরে হামলার যত ঘটনা ঘটেছে, সেই হামলাকারী আওয়ামী লীগই করেছে বলে মিডিয়ায় এসেছে। এখনও যদি সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা হয়ে থাকে তারাই করে দেশকে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা বাধিয়ে দিতে চায়।

তিনি আরও বলেন, আমরা অনেক আগেই বলেছি, সকল মন্দির ও উপাসনালয়ে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হোক। যদি কোনও মন্দিরে সিসি ক্যামেরা না থাকে তাহলে তা মন্দির হিসেবে গণ্য হবে না এবং তাতে হামলা হলে ধরে নেওয়া হবে তারা নিজেরাই হামলা করেছে।

সংগঠনের ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, দলের মহাসচিব মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, মুহাম্মাদ আমিনুল ইসলাম, ড. মাওলানা বেলাল নূর আজিজী, মাওলানা আরিফুল ইসলাম, মুফতী ওয়ালী উল্লাহ, ডা. শহিদুল ইসলাম, মুফতী মানসুর আহমদ সাকী, ছাত্রনেতা ইউসুফ আহমদ মানসুর, অধ্যাপক ফজলুল হক মৃধা, মুফতী রফিকুল ইসলাম আশরাফী।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ