বুধবার | ১৪ জানুয়ারি | ২০২৬
spot_img

এরদোগানের নর্দার্ন সাইপ্রাস ও আজারবাইজান সফর যে কারণে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য

সম্প্রতি নতুন মেয়াদে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর রজব তাইয়েব এরদোগানের প্রথম বিদেশ সফর ছিলো আজারবাইজান ও টার্কিশ রিপাবলিক অফ নর্দার্ন সাইপ্রাস-টিআরএনসিতে।

বন্ধু রাষ্ট্রের তালিকার শীর্ষে থাকা এই দেশ দু’টিতে সফর করা প্রকৃতপক্ষে দীর্ঘদিনের তুর্কি ঐতিহ্যের অংশ। সংহতি প্রকাশার্থে এই দু’টি দেশে সর্বপ্রথম সফর করে থাকেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট।

গ্রীক সাইপ্রিয়টদের নির্যাতন থেকে তুর্কি সাইপ্রিয়টদের রক্ষায় ১৯৮৩ সালে তুরস্ক তাদের সেনা সাহায্য পাঠানোর পর তুর্কি অধ্যুষিত সাইপ্রাস আলাদা একটি রাষ্ট্রে পরিণত হয়। গঠিত হয় টার্কিশ রিপাবলিক অফ নর্দার্ন সাইপ্রাস। সেই থেকেই তুরস্ক এই দেশের প্রতি তাদের সংহতি প্রকাশে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আসছে। বিশেষত এরদোগান এ দেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এখনো চাপ দিয়ে যাচ্ছেন।

সাম্প্রতিক টিআরএনসি সফরকালেও দেশটির পাশে থাকার বিষয়ে গ্রীসের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেছিলেন, তুর্কি সাইপ্রিয়টরা কখনো এই দ্বীপ রাষ্ট্রের সংখ্যালঘু ছিল না। সংখ্যালঘু হবেও না। এটিই হলো প্রকৃত সত্য। যারা এই সত্যকে উপেক্ষা করবে তারা দ্বীপের শাসক হওয়ার স্বপ্নই শুধু দেখতে পারবে, অন্যকিছু নয়। কেননা আঙ্কারা তুর্কি সাইপ্রিয়টদের অধিকার রক্ষা করে যাবে।

আর আজারবাইজান বহু আগ থেকেই তুরস্কের সাথে ওতোপ্রোতভাবে ভাবে জড়িত। এই দু’টি রাষ্ট্রের ব্যাপারে বলা হয়, “তুরস্ক আর আজারবাইজান, দুই রাষ্ট্র এক জাতি।” আজারবাইজানের ক্ষেত্রেও বিভিন্নভাবে নিজেদের সংহতি প্রকাশ করে থাকে তুরস্ক। যেমন, সর্বশেষ কারাবাখ ইস্যুতে নিজস্ব প্রযুক্তির অত্যাধুনিক ড্রোন, বিভিন্ন ধরণের সামরিক ও রাজনৈতিক সহায়তা দিয়ে নিজেদের সংহতি প্রকাশ করেছিলো আঙ্কারা।

এরপর দেশ দু’টির সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ হয়। ২০২১ সালে ‘শুশা পরিকল্পনা’ ঘোষণার মাধ্যমে তুরস্ক ও আজারবাইজান একে অপরের আনুষ্ঠানিক মিত্রে পরিণত হয়।

এছাড়া সাম্প্রতিক সফরে আর্মেনিয়ার মধ্যদিয়ে জাঙ্গেজুর করিডর স্থাপনের মাধ্যমে আজারবাইজানকে তাদের নাখচিভান ভূখণ্ডের সাথে ও তুরস্কের সাথে যুক্ত করতে চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমেও নিজেদের সংহতির জানান দিয়েছেন এরদোগান।

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড

spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ