২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে দখলদার ইসরাইলী সেনাবাহিনীর হাতে ফিলিস্তিনের ৮০ বছর বয়সী ওমর আসাদ শহীদ হন। তবে তার মৃত্যুর জন্য দায়ী সৈনিকদের ফৌজদারী মামলার মুখোমুখি করছে না দখলদার ইসরাইল। যদিও ফিলিস্তিনি নেতারা আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন।
ওমর আসাদ, যিনি ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের জিলজীয়ার শহরের বাসিন্দা ছিলেন। ঘটনার দিন তিনি গাড়িতে করে গন্তব্যস্থলে যাচ্ছিলেন। তবে জিলজীয়ার চেক পয়েন্টে তার গাড়িটিকে দাঁড় করায় দখলদার ইসরাইলি বাহিনী।
এ সময় পরিচয় না দেওয়ার অভিযোগে তাকে গাড়ি থেকে টেনে হিঁচড়ে নামানো হয়। তার চোখ বেঁধে দেওয়ার পাশাপাশি দুই হাতে হ্যান্ডকাপ পরানো হয়। মাটিতে ফেলে রাখা হয় দীর্ঘ সময়। এরপর তার হ্যান্ডকাফ খুলে তাকে ফেলে রেখে চলে যায় দখলদার বাহিনী। তারা একবারও পরীক্ষা করার প্রয়োজনও মনে করেনি যে বৃদ্ধ ব্যক্তিটি জীবিত নাকি মৃত। পরদিন ভোরে তার মৃতদেহ ও গাড়িটি রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
পরবর্তীতে চিকিৎসকদের রিপোর্ট অনুযায়ী বোঝা যায় তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
তবে একজন ইসরাইল সামরিক চিকিৎসক বলেন, “আসাদের মৃত্যু যে সৈন্যদের আচরণের কারণে হয়েছে তা নির্ধারণ করা অসম্ভব।”
ইসরাইলের সামরিক আদালত জানিয়েছে, “এ ঘটনায় জড়িত সৈনিকদের ফৌজদারি অপরাধের জন্য শাস্তি দেওয়া হবে না। তবে তাদের মধ্যে একজনকে তিরস্কার করা হবে। দুইজনকে বরখাস্ত ও দুইজনকে দুই বছরের জন্য সামরিক পদের উচ্চস্থানে যোগদানে বাধা দেওয়া হবে।”
এই হত্যাকাণ্ডের জন্য কোন ধরনের মামলা না হওয়া কোনক্রমেই অবাক করেনি যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় বসবাসরত ওমরের ভাই নওয়াফ আসাদকে।
নওয়াফ আসাদ গণমাধ্যমকে জানান, “আমার কাছে এটা এখন স্পষ্ট যে সৈন্যরা অপরাধমূলক আচরণ করেছিল। কিন্তু ইসরাইল যা চায় তা সে যেকোনো মূল্যেই পেয়ে থাকে।”
সূত্র: আল জাজিরা











