spot_img

একটি বিশেষ দেশকে সুবিধা দিতেই শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছিল : সংসদে প্রধানমন্ত্রী

একটি বিশেষ দেশকে একচেটিয়া সুবিধা দেওয়া এবং বিশেষ স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীকে খুশি করতে বিগত ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী সরকার দেশের শিক্ষা ও চিকিৎসাব্যবস্থা পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, বিগত সরকার অন্যের এজেন্ডা ও তাবেদারি বাস্তবায়নের জন্য দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংসের নীতি গ্রহণ করেছিল। একইভাবে চিকিৎসাব্যবস্থাকে পঙ্গু করে একটি বিশেষ দেশের বাণিজ্যিক স্বার্থের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল।

বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বড় বড় হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিকল্পিতভাবে অকার্যকর করে রাখা হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল একটি বিশেষ দেশকে রোগী সরবরাহ এবং চিকিৎসা বাণিজ্যে একচেটিয়া সুবিধা দেওয়া। এর ফলে দেশের কোটি কোটি মানুষ ন্যূনতম সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

নিজের পারিবারিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তার স্ত্রী একজন পেশাদার চিকিৎসক হওয়ায় চিকিৎসাব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেক মানুষের বাস্তব ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা তিনি কাছ থেকে জেনেছেন।

শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়াললিখনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো জাতিকে ধ্বংস করতে অস্ত্রের প্রয়োজন হয় না, তার শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করে দিলেই চলে। বিগত স্বৈরাচারী সরকার অন্য কাউকে খুশি করতে এ ক্ষতিকর নীতিই গ্রহণ করেছিল।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এই জাতীয় স্বার্থবিরোধী নীতির সম্পূর্ণ বিরোধী। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আধুনিক ও মানবিক শিক্ষায় গড়ে তুলতে বিতর্কিত পাঠ্যক্রম পর্যায়ক্রমে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। শিক্ষার প্রয়োজনীয় উপকরণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষকদের যুগোপযোগী ও মানসম্মত প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, এবারের বাজেটে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

বাজেট উপস্থাপনের দিন বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা দেশের চিকিৎসাব্যবস্থাকে শতভাগ অসুস্থ বলেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে এই ব্যবস্থা ১০১ ভাগ অসুস্থ।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে চলতি বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ জিডিপির ১ দশমিক ২ শতাংশ বলে উল্লেখ করেন। তবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের সরকারি বাজেটের হিসাবে এ খাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা জিডিপির ১ দশমিক ০১ শতাংশ। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দও জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

রোগ নিরাময়ের চেয়ে রোগ প্রতিরোধকে অগ্রাধিকার দিতে সারা দেশে শিগগিরই ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে বলেও জানান সরকারপ্রধান।

তিনি বলেন, সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশের পাঁচটি বিভাগে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট পাঁচটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালু করা হবে। এতে গ্রামীণ এলাকার দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিশুদের উন্নত চিকিৎসার জন্য আর রাজধানীতে আসতে হবে না।

বিগত সরকারের উন্নয়ন প্রচারণার সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, দেড় দশক ধরে দেশের মানুষকে তথাকথিত উন্নয়নের গল্প শোনানো হয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে তিনি সেই প্রচারণার সঙ্গে বাস্তবতার মিল পাননি।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বেহাল অবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্পের কাজও দীর্ঘদিন অবহেলিত ছিল। বর্তমান সরকার জনগণের দুর্ভোগ কমাতে সড়ক ও মহাসড়কের উন্নয়ন কার্যক্রম অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুরু করেছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দুর্নীতির প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, কুইক রেন্টালের নামে বিদ্যুৎ খাত থেকে অন্তত ৩ লাখ কোটি টাকা লুট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বসিয়ে রেখে ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিগত সরকার দেশের জ্বালানি খাতকে সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর করে ফেলেছিল। তখন দেশে ৩০ দিনেরও কম জ্বালানি তেলের মজুত থাকত। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তা ৪৫ দিনের বেশি করেছে। ভবিষ্যতে এ মজুত ৯০ দিনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

দেশের অবকাঠামোগত সংকট দূর করে দুর্নীতিমুক্ত, স্বাবলম্বী ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ