প্রধান বিচারপতি হিসেবে বিদায় নেওয়ার মাত্র দুই দিন আগে যুগান্তকারী রায় দিয়ে গেলেন পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি উমর আতা বান্দিয়াল। শাহবাজ শরীফের সরকারের করা দুর্নীতি বিরোধী সংস্থা ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টেবিলিটি ব্যুরোর (ন্যাব) আইনে সংশোধনী বিল বাতিল করেছেন উমর আতা বান্দিয়ালের নেতৃত্বাধীন ৩ সদস্যের বেঞ্চ। অন্য দুই বিচারক হলেন বিচারপতি এজাজুল আহসান ও বিচারপতি মনসুর আলী শাহ। তবে বিচারপতি মনসুর আলী শাহ আইন সংশোধনের পক্ষে রায় দিয়েছেন।
শুক্রবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এই রায় ঘোষণা করে পাকিস্তানের সুপ্রিমকোর্ট।
২০২১ সালে ইমরান খানকে হটিয়ে ক্ষমতায় আসার পর ন্যাব আইনে সংশোধন করে শাহাবাজ শরীফের সরকার।আইন সংশোধনের পর তৎকালীন সরকারে থাকা রাজনীতিবিদ এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে করা দুর্নীতির মামলাগুলো তুলে নেওয়া হয়।
এরপর গত বছরের জুনে এই আইন সংশোধনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দায়ের করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তার সেই পিটিশনের প্রেক্ষিতেই শুক্রবার আইনের সংশোধিত ধারাগুলো বাতিল করে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি উমর আতা বান্দিয়ালের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের তিন সদস্যের বেঞ্চ।
এই সংশোধনী ধারা বাতিল করে দেওয়ার অর্থ হলো— পাকিস্তানের বড় বড় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ ছিল এবং যেগুলো বাতিল করে দেওয়া হয়েছিল— সেগুলো আবারও দুর্নীতি বিরোধী আদালতে ফিরে যাবে। আর এরমাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও মুসলিম লীগ-এন এর নওয়াজ শরীফ, পিপিপির সহ-সভাপতি ও সাবেক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানির মতো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাগুলো সচল হবে।
আদালত তার রায়ে বলেছেন, আইন পরিবর্তন করার পর যেসব মামলা বাতিল করা হয়েছে সেগুলো আবারও পুনর্স্থাপন করতে হবে, সঙ্গে যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত চলছিল সেগুলোও আবার শুরু করতে হবে।
এছাড়া ৫০০ মিলিয়ন রুপির কম যেসব দুর্নীতি মামলা বাতিল করা দেওয়া হয়েছিল সেগুলোও আবার সক্রিয় করতে হবে এবং এক সপ্তাহের মধ্যে এসব মামলা দুর্নীতি বিরোধী আদালতে নিয়ে আসতে হবে। এছাড়া আইন সংশোধনের পর যেসব মামলার রায় দেওয়া হয়েছিল সেগুলোও বাতিল করে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট।
আদালত রায়ে আরও বলেছেন, ন্যাবের আইনে যেসব সংশোধনী আনা হয়েছিল, সেগুলোর কয়েকটি সংবিধান বিরোধী ছিল।
সূত্র: দ্য ডন










