ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরায়েলের সেনারা ১৫ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি কিশোরীকে হত্যা করেছে। শহীদ কিশোরীর নাম ফুলা রাসমি আল-মাসালমা। ১৬তম জন্মদিনের মাত্র একদিন আগে তাকে গুলো করে হত্যা করে ইহুবাদী সন্ত্রাসীরা।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায় সোমবার (১৪ নভেম্বর) রামাল্লার পশ্চিমে বিতুনিয়ায় সেনা অভিযানের সময় ইসরায়েলি সেনারা তাকে মাথায় গুলি করে হত্যা করে। এসময় ফুলা রাসমি সহ আরেকজন ব্যক্তি একই গাড়ির যাত্রী ছিলেন। অপরজন গুলিতে আহত হয়েছেন ।
অবৈধ রাষ্ট্র ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বক্তব্য অনুযায়ী সৈন্যরা একটি “সন্দেহজনক” গাড়িকে থামানোর চেষ্টা করা হলেও না থামলে গাড়িটিকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা ইসরায়েলের এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন ।
বেইতুনিয়া পৌরসভার মুখপাত্র আহমেদ ফারাজের মতে গুলিবিদ্ধ মাসালমাকে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল ।
ফারাজ (মিডিল ইস্ট আই) কে বলেন, “তারা কীভাবে জানত যে ওই রাস্তায় সৈন্য ছিল? সামরিক বাহিনীর উচিত ছিল গাড়ি টি থামানো। কিন্তু তারা বিনা দ্বিধায় সরাসরি তাদের গুলি করে। এমনকি ভিতরে কে আছে তাও পরীক্ষা করেনি। তাদেরকে সতর্ক করার জন্য কোন ফাঁকা গুলি ও করা হয়নি । মূলত “তারা হত্যা করার জন্য গুলি করছিল, তাদের থামানোর জন্য নয়।”
ফারাজ আরো বলেন, ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য অনুযায়ী, ১৫ বছর বয়সী শিশুটিকে চিকিৎসা সেবা থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে এবং প্রায় ২৫ মিনিট ধরে রক্তপাত হওয়ার পর সে মারা যায় ।
ইসরায়েলি বাহিনী সকাল সাড়ে ৬ টার দিকে তার লাশ ফিলিস্তিনি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসে ফিরিয়ে দেয়। একই গাড়িতে থাকা অন্য আহত ব্যক্তি ইসরায়েলের হেফাজতে রয়েছে।
ইসরায়েলি বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে তাদের “শুট-টু-কিল” নীতির জন্য সমালোচিত হয়ে আসছে । এমনকি যেসব ব্যক্তিরা ইসরায়েলি সৈন্যদের জীবনের জন্য আসন্ন হুমকি সৃষ্টি করে না তারা তাদেরকেও হত্যা করছে ।
ফারাজ বলেন, মাসলমার মৃত্যুর ঘটনাটি নিশ্চিত একটি “যুদ্ধাপরাধ” ।
ভিডিওতে দেখা গেছে “সৈন্যরা যখন গাড়িটি দেখেছিল, তারা গুলি চালানোর আগে এক মুহূর্তও অপেক্ষা করেনি।
তিনি ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজের কথা উল্লেখ করে বলেন, “লক্ষ্যবস্তু হওয়ার পূর্বে গাড়িটির গতি কমে যাচ্ছিল।”
ফারাজ যোগ করেন, “সেনারা এমনকি গাড়িতে কে ছিল তাও জানত না। তারা এর জন্য হত্যা করতে চেয়েছিল।”
অধিকৃত পশ্চিম তীরে প্রায় রাতের বেলায় এই ধরনের অপারেশন হয় এবং এতে প্রায়ই ফিলিস্তিনিদের আহত বা হত্যা করা হয়।
চলতি বছরে পশ্চিম তীরে অন্তত ৩০ জন শিশু সহ কমপক্ষে ১৩৮ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়েছে । ২০০৫ সালে জাতিসংঘের মৃত্যুর রেকর্ড শুরু করার পর থেকে এটি ফিলিস্তিনিদের জন্য মাসিক গড়ে সবচেয়ে মারাত্মক হয়ে উঠেছে।
সূত্র : মিডল ইস্ট আই











