সোমবার | ১৬ ফেব্রুয়ারি | ২০২৬
spot_img

নির্বাচনে কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বাধীন বাম জোটের ভরাডুবি, জামানত হারালেন সব প্রার্থী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বামপন্থি দলগুলোর জোট গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট বড় ধরনের ভরাডুবির মুখে পড়েছে। কোনো আসনেই জয় না পাওয়ার পাশাপাশি, এই জোটের প্রার্থীরা সব আসনেই জামানত হারিয়েছেন। অর্থাৎ, সংশ্লিষ্ট আসনে গৃহীত মোট ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোটও তারা পাননি।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলে এ চিত্র দেখা যায়।

বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গড়ার লক্ষ্যে নির্বাচনের আগে বামপন্থি কয়েকটি দল ‘গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট’ নামে জোট গঠন করে। শনিবার (২৯ নভেম্বর) বাম গণতান্ত্রিক জোট ও বাংলাদেশ জাসদ আয়োজিত জাতীয় কনভেনশন থেকে এই যুক্তফ্রন্ট গঠন করা হয়েছিল। পরে আরও বাম-প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক দল ও সংগঠনকে যুক্ত করা হয়। শেষ পর্যন্ত এই যুক্তফ্রন্টে আটটি বামপন্থি রাজনৈতিক দলের প্লাটফর্ম হয়, এবং জোটগতভাবে দলগুলো নির্বাচনে অংশ নেয়।

এই যুক্তফ্রন্টে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল রয়েছে চারটি। দলগুলো হলো বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ (মার্কসবাদী) ও বাংলাদেশ জাসদ। জোট ঐক্যবদ্ধভাবে মোট ৯৭টি আসনে প্রার্থী দেয়।

এর বাইরে দলগুলো নিজস্বভাবেও প্রার্থী দেয়। সবমিলিয়ে জোটভুক্ত দলগুলোর প্রার্থী ছিল ১৪৭টি আসনে। এর মধ্যে সিপিবির প্রার্থী ৬৫ আসনে, বাসদের প্রার্থী ৩৭ আসনে, বাসদ (মার্কসবাদী) ৩৩ আসনে এবং বাংলাদেশ জাসদের প্রার্থী ১৫টি আসনে ছিলেন।

জোটের প্রার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন বাসদের প্রার্থী মণীষা চক্রবর্তী। তিনি বরিশাল-৫ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ২২ হাজার ৪৮৬ ভোট পেয়েছেন।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, কোনো আসনে গৃহীত মোট ভোটের আট ভাগের এক ভাগের কম ভোট পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। ১৪৭টি আসনে যুক্তফ্রন্টের প্রার্থীরা লড়লেও প্রত্যেক আসনেই তারা এই ন্যূনতম সীমার নিচে থাকায় জামানত হারান।

জোটের শরিক দল বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান পঞ্চগড়-১ আসন থেকে প্রার্থী হন। তিনি এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এখান থেকে বিজয়ী হয়েছিলেন। তবে এবারের নির্বাচনে তিনি জামানত টিকিয়ে রাখতে পারেননি। তিনি এবার ৩ হাজার ১০ ভোট পেয়েছেন।

সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ কাফী রতন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দুজনই জামানত হারিয়েছেন। কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন প্রার্থী ছিলেন নরসিংদী-৪ আসনে এবং আবদুল্লাহ কাফী রতন প্রার্থী ছিলেন কুমিল্লা-৫ আসনে। যুক্তফ্রন্টের অধিকাংশ প্রার্থীই এক হাজারের নিচে ভোট পেয়েছেন, কেউ কেউ দুই বা তিন হাজার ভোট পেয়েছেন।

সিপিবি থেকে মোট ৬৫টি আসনে প্রার্থী দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন খুলনা-১ আসনের প্রার্থী কিশোর রায়, তিনি ভোট পেয়েছেন ৪ হাজার ৮৪২। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন নেত্রকোনা-১ আসনের প্রার্থী আলকাছ উদ্দিন মীর, তিনি ভোট পেয়েছেন ৪ হাজার ৪২৯।

এ ছাড়া ঢাকা-৮ আসনে বাসদ (মার্কসবাদী) প্রার্থী এএইচএম রফিকুজ্জামান আকন্দ কাঁচি প্রতীকে পেয়েছেন ৯৬ ভোট এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (বাংলাদেশ জাসদ) প্রার্থী এএফএম ইসমাইল চৌধুরী মোটরগাড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৫৬ ভোট।

spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ