ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের পুলিশ এখন থেকে নতুন পুলিশ আইনের অধীনে কার্যক্রম পরিচালনা করবে বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী খলিফা সিরাজুদ্দীন হাক্কানী। মাওলানা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা অনুমোদিত ৫৩ ধারার এ আইনে নিরাপত্তা রক্ষা, সীমান্ত নিরাপত্তা, অপরাধ দমন, মাদক প্রতিরোধ এবং অপহরণ ও মানবপাচার ঠেকানোসহ পুলিশের দায়িত্ব ও ক্ষমতার বিভিন্ন ক্ষেত্র নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) আফগান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নতুন পুলিশ আইন সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহিত করতে আয়োজিত এক দিকনির্দেশনামূলক বৈঠকে এ কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হাক্কানী।
বৈঠকে নতুন আইনটির গুরুত্বপূর্ণ বিধান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সামনে ব্যাখ্যা করা হয়। এ সময় হাক্কানী বলেন, এখন থেকে পুলিশের কার্যক্রম নতুন আইন অনুযায়ী পরিচালিত হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আইনটির বিধান অনুসরণ করে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন তিনি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী ও মহাপরিচালকরা, কাবুলের উপ-গভর্নর ও পুলিশ কমান্ডার, বিভিন্ন জেলার প্রশাসনিক ও পুলিশ কর্মকর্তা এবং কাবুল শহরের বিভিন্ন পুলিশ জোনের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তাবিষয়ক উপমন্ত্রী মোল্লা মুহাম্মাদ ইবরাহিম সদর নতুন পুলিশ আইন বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মন্ত্রণালয়ের প্রথম উপমন্ত্রী মাওলানা মুহাম্মাদ নবী উমরীও আইনটিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আফগান পুলিশের কার্যক্রমের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আইনটি যথাযথভাবে অনুসরণ করার আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে মাওলানা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার অনুমোদনের পর নতুন পুলিশ আইনটি আফগানিস্তানের সরকারি গেজেটের ১৪৯৬তম সংখ্যায় প্রকাশ করা হয়।
আইনটিতে একটি ভূমিকা, দুটি অধ্যায়, পাঁচটি পরিচ্ছেদ ও মোট ৫৩টি ধারা রয়েছে। আইনটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে।
নতুন আইনে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ও সীমান্ত রক্ষা, সড়কে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ, বন্দিদের ব্যবস্থাপনা, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও বনাঞ্চল সুরক্ষা, অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধ, মাদকবিরোধী কার্যক্রম এবং অপহরণ ও মানবপাচার ঠেকানোসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পুলিশের দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া ব্যক্তির পরিচয় যাচাই, কাউকে তলব ও হাজির করা, অপরাধীকে গ্রেফতার, সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে নজরদারিতে রাখা এবং তল্লাশির ক্ষেত্রে পুলিশের করণীয় ও ক্ষমতার সীমাও আইনে নির্ধারণ করা হয়েছে।
সূত্র: আফগান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আফগান বিচার মন্ত্রণালয়, বাখতার নিউজ এজেন্সি ও পাজওক আফগান নিউজ











