spot_img
spot_img

আফগানিস্তানে আগ্রাসন হলে মার্কিন বাহিনীর মতো একই পরিণতির হুঁশিয়ারি হক্কানীর

স্বল্পমূল্যের সরঞ্জাম ও বিস্ফোরক ব্যবহার করে আমেরিকান সেনাদের ব্যাপক আর্থিক ও মানবিক ক্ষতি করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী মাওলানা শের আহমাদ হক্কানী। তিনি বলেন, এর ফলে শেষ পর্যন্ত আফগানিস্তানে যুদ্ধ শেষ করতে আমেরিকা বাধ্য হয়েছিল।

মাওলানা হক্কানী বলেন, সীমিত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও আফগানরা নিজেদের ভূখণ্ডে বিশ্বের বড় বড় শক্তিকে পরাজিত করেছে। ভবিষ্যতে কোনো আগ্রাসী শক্তি আফগানিস্তানে হামলা চালালে তাদেরও একই পরিণতি হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।

তিনি বলেন, আপনারা এখানে যে স্থলমাইনটি দেখতে পাচ্ছেন, এটি খুব কম খরচে তৈরি করা হয়েছিল। অথচ এটি তাদের ব্যয়বহুল যানবাহন ও ট্যাংক ধ্বংস করেছে। খুব অল্প অর্থ খরচ করে তাদের ব্যয়বহুল সরঞ্জাম ধ্বংস করা হয়েছিল। এতে আমেরিকান ও তাদের মিত্ররা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। তারা বুঝতে পারে, যুদ্ধ চালিয়ে গেলে তাদের বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং ক্রমবর্ধমান প্রাণহানির মুখে পড়তে হবে।

পাকিস্তানের প্রসঙ্গ তুলে মাওলানা হক্কানী সতর্ক করে বলেন, আফগানিস্তানের প্রতিবেশী দেশসহ যে কোনো দেশ আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করলে তাদেরও একই পরিণতি ভোগ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, যারা তাদের চেয়ে বেশি শক্তিশালী ছিল, তাদেরও এসব অস্ত্র দিয়ে পরাজিত করা হয়েছে। তারা তাদের চেয়ে বেশি শক্তিশালী নয়। তারা যদি আগ্রাসন চালিয়ে যায়, তাহলে হয়তো নিজেদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে হামলা বন্ধ করবে। কিন্তু কেউ যদি আফগানিস্তানে হামলা চালায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে এসব অস্ত্র এবং আরও উন্নত অস্ত্র ব্যবহার করা হবে।

এদিকে জিহাদের সময়কার নিদর্শন সংরক্ষণ বিষয়ক সাধারণ অধিদপ্তরের জিহাদকালীন নিদর্শন ও নথি নিবন্ধন বিভাগের পরিচালক সাঈদ খোস্তি বলেন, মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি বড় আমেরিকান ট্যাংকও এই যন্ত্রের মাধ্যমে ধ্বংস করা সম্ভব ছিল। এগুলো সবই জিহাদের সময়কার নিদর্শন। ইমারাতে ইসলামিয়ার নেতা আমাদের এগুলো সংগ্রহ করার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে একটি বার্তা পৌঁছে দেওয়া যায়।

এদিকে মায়দান ওয়ারদাকের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক হাবিবুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, সদ্য উদ্বোধন করা জাদুঘরটিতে যুদ্ধসংক্রান্ত ২৬১টি এবং ঐতিহাসিক ২৫০টি নিদর্শন প্রদর্শন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের জাদুঘরে চারটি বিভাগ রয়েছে। এগুলো হলো সামরিক, ঐতিহাসিক, পাণ্ডুলিপি এবং ৩ হাজার ৫১ জন শহীদের নামসংবলিত একটি বিভাগ।

মায়দান ওয়ারদাকের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের তথ্যমতে, আফগানিস্তানে সোভিয়েত আগ্রাসনের সময় আফগানরা ব্যবহার করেছিল এমন অস্ত্র ও অন্যান্য নিদর্শন সংগ্রহ ও সংরক্ষণের কাজও চলছে।

সূত্র : টোলো নিউজ

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ