spot_img
spot_img

মৌলিক আইন বাংলায় অনুবাদ করতে সংশ্লিষ্টদের লিগ্যাল নোটিশ

আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, বাংলাদেশ আইন কমিশনের চেয়ারম্যান, বাংলা অ্যাকাডেমির মহাপরিচালক, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে এ নোটিশ পাঠান আইনজীবী শিশির মনির।

নোটিশে বলা হয়, আদালতের সব ধরনের কার্যাবলী আইনের আলোকে পরিচালিত হয়। আদালতের কার্যক্রম সংক্রান্ত মৌলিক আইনগুলো- দণ্ডবিধি, ১৮৬০, সাক্ষ্য আইন, ১৯৭২ চুক্তি আইন, ১৮৭২ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭), সিভিল কোর্টস অ্যাক্ট, ১৮৮৭, সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২, ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ দেওয়ানি কার্যবিধি, এবং ১৯০৮ তামাদি আইন, ১৯০৮। বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট (আপিল বিভাগ) রুলস, ১৯৮৮, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (হাইকোর্ট বিভাগ) রুলস, ১৯৭৩, ক্রিমিনাল রুলসের অর্ডারস, ২০০৯, সিভিল রুলসের অর্ডারস। অধিকাংশ আইন ব্রিটিশ আমলে এবং ইংরেজি ভাষায় প্রণীত।

নোটিশে আরো বলা হয়, আদালতে ফৌজদারি এবং দেওয়ানি মামলার বিভিন্ন পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে এসব আইনের গুরুত্ব ও ব্যবহার সর্বাধিক। এ আইনগুলোর বাংলায় অনুদিত নির্ভরযোগ্য পাঠ প্রণয়ন ও প্রকাশ ব্যতিত আদালতের সর্বস্তরে বাংলা ভাষা ব্যবহারের আইনি বিধান সম্পূর্ণ অর্থহীন এবং অযৌক্তিক। এখন পর্যন্ত এসব মৌলিক আইনের কোনো নির্ভরযোগ্য বাংলা পাঠ প্রণয়ন করা হয়নি। সর্বস্তরে বিশেষত আদালতে বাংলা ভাষা প্রচলনের স্বার্থে উক্ত মৌলিক আইনসমূহের বাংলায় অনুদিত নির্ভরযোগ্য পাঠ প্রকাশ অত্যাবশ্যক।

এমতাবস্থায় মৌলিক আইনগুলোর বাংলায় অনুদিত নির্ভরযোগ্য পাঠ প্রকাশে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে নোটিশে অনুরোধ জানানো হয়।

নোটিশে বলা হয়, বাংলাদেশে প্রচলিত আইনসমূহের মধ্যে অনেক আইন রয়েছে যা ইংরেজি ভাষায় প্রণীত। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের আগে প্রণীত আইনগুলো ইংরেজি ভাষায় প্রণীত ও প্রকাশিত। বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা ও অফিসিয়াল ভাষা বাংলা। এমতাবস্থায় ইংরেজিতে প্রণীত আইনসমূহের অনুমোদিত বাংলা পাঠ প্রকাশ না করা হলে দেশের মানুষ আইন জানা থেকে বঞ্চিত হবেন। কেননা, ইংরেজি জানার কারণে শুধুমাত্র শিক্ষিত শ্রেণি আইন জানতে পারবেন এবং কম শিক্ষিত বা অশিক্ষিত শ্রেণি আইনের জ্ঞানলাভ থেকে বঞ্চিত হবেন। যা বৈষম্যমূলক এবং সংবিধান অনুযায়ী অবৈধ।

একইসঙ্গে ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত কোনো পদক্ষেপ নেয়া হলে পরবর্তী সাত দিবসের মধ্যে নোটিশ দাতাদের জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে। অন্যথায় নোটিশ দাতারা আদালতের শরণাপন্ন হবেন।

নোটিশদাতা ১০ আইনজীবী হলেন মোস্তাফিজুর রহমান, মীর ওসমান বিন নাসিম, মোঃ আসাদ উদ্দিন, মোহা. মুজাহিদুল ইসলাম, মোঃ জোবায়েদুর রহমান, মোঃ আব্দুস সবুর দেওয়ান, আল রেজা মোঃ আমির, আব্দুল্লাহ হিল মারুফ ফাহিম, জি এম মুজাহিদুর রহমান ও মোঃ জহিরুল ইসলাম।

সূত্র : বাসস

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ