ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেছেন, দেশে দুর্নীতি মহামারি আকার ধারণ করেছে। সরকারের ছত্রচ্ছায়ায় থাকা লোকজন একদিকে ব্যাংক লোটপাট করছে, টাকা পাঁচার করছে। সরকারের ছায়াতলের বাইরে থাকা অনেকের সম্পদেরও এখন আর কোনো নিরাপত্তা নেই। সরকার লুটপাটের স্বার্থে রাজত্ব কায়েম করেছে।
শনিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বরিশালের বান্দ রোডস্থ সাউথ কিং চাইনিজ রেস্টুরেন্ট অডিটোরিয়ামে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ বরিশাল জেলা শাখার সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চরমোনাই পীর মুফতী রেজাউল করীম বলেন, জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে পুরো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে বিরোধীদের দমনপীড়নে ব্যবহার করছে।
তিনি বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণের কথা সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে বলা হলেও নিত্যপণ্যের দাম কমাতে পারছে না। সিন্ডিকেটের কাছে সরকার অসহায়। নিত্যপণ্যের কষাঘাতে মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। মাহে রমজানকে সামনে রেখে সিন্ডিকেটচক্র তৎপর হয়ে উঠছে। দেশের টাকা বিদেশে পাচার করে দেশকে অর্থনৈতিকভাবে দেউলিয়া করে দেয়া হয়েছে। ঋণের নামে যারা ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা নিয়ে মেরে দিয়েছে, তারা সরকারের লোক।
তিনি আরও বলেন, ঋণখেলাপিদের কাছ থেকে টাকা আদায় করতে না পারলেও সাধারণ কৃষককে ১০/২০ হাজার টাকার জন্য দড়ি বেঁধে জেলে ঢোকানো হচ্ছে। হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ খেলাপী এবং হাজার হাজার কোটি টাকা যারা বিদেশে পাচার করেছে তারা ধরা ছোয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকারি ছায়াতলের বাইরে যাঁরা আছেন, তাঁদের জীবন ও সম্পদের কোনো নিরাপত্তা নেই। তিনি বলেন, এ অবস্থা থেকে জাতিকে মুক্ত করতে হলে রাজনীতিতে গুণগত ও আদর্শিক পরিবর্তন প্রয়োজন। ইসলামী আন্দোলন গুণগত পরিবর্তনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। পরে তিনি চলমান দেশব্যাপী দাওয়াতী পক্ষ উপলক্ষে নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযান পরিচালণা করেন।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন, মুফতী সৈয়দ এছহাক মুহাম্মদ আবুল খায়ের, মাওলানা মুহাম্মদ নেছার উদ্দীন, মাওলানা উপাধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম। প্রধান বক্তা ছিলেন ছাত্রনেতা নূরুল বশর আজিজী। জেলা সভাপতি এইচএম আল আল-আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন, হাফেজ মাওলানা আব্দুল হালিম, শেখ শামসুল আলম মিলন, অধ্যাপক মাওলানা লোকমান হোসাইন, মাওলানা কাওছারুল ইসলাম, মাওলানা কেএম শরীয়াতুল্লাহ, মাওলানা হাফিজুর রহমান, গাজী ওসমান গণী, মাওলানা নাছির উদ্দিন রোকন (ডাকুয়া), এইচএম সানাউল্লাহ্।










