বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমীর ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেছেন, আল্লাহর পথে যে অর্থ ব্যয় করা হয় ঐ সম্পদটুকুই ব্যক্তির নিজস্ব সম্পদ, বাকি সবকিছু অন্যের জন্য। যারা সত্যিকার বুদ্ধিমান তারাতো কেবল নিজের নির্দিষ্ট মালকেই গ্রহণ করবে, আল্লাহর পথে সম্পদ ব্যয় করাকে ভালোবাসবে। আল্লাহর পথে ব্যক্তি যে সম্পদ ব্যয় করবে সেটাই পরকালে তার সুখের কারণ হবে। আল্লাহর পথে সম্পদ খরচ করা প্রকৃত অর্থে নিজের সম্পদ জমা রাখার মতো।
শুক্রবার (১৭ মার্চ) সকালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, আপনাদের যাকাত ও সার্বিক সহযোগিতার ফলেই আপনাদের প্রত্যাশিত কাফেলার সমাজকল্যাণমূলক সকল কাজ পরিচালিত হচ্ছে। মানবতার সেবা ও সমাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশে কুরআনের রাজ কায়েম করতে চাই। কুরআনের আইনে মানুষ সম্মান ও ইজ্জত ভোগ করবে। আমরা সেই দিনটার জন্যই সংগ্রাম করছি।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান আরও বলেন, যাকাত দাতা ও সুধীদের জন্য আল্লাহর দরবারে দু‘আ করি, আল্লাহ যেন তাদের সম্পদে বারাকাহ দান করেন। এ সহযোগিতা পেয়ে জামায়াতে ইসলামী সমাজের দুঃখী মানুষের জন্য কিছু করার সুযোগ পায়। যাকাতের নির্দিষ্ট ৮টি খাত বিবেচনায় রেখে সকল কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। রাজধানীতে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ সংগঠন ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা, এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস, লাশ দাফন, রোগীর সেবা, কর্যে হাসানা, পুনর্বাসন, তৃণমূল পর্যায়ে গরীব-দুঃখী মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করাসহ আরও অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ কাজ তারা হাতে নিয়েছে। এ কর্মসংস্থানের উদ্যোগকে সফল ও টেকসই করার জন্য কৌশলগত ও কারিগরি সহায়তাও প্রদান করছে।
তিনি বলেন, মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের ঘোষণা অনুযায়ী এক সময় মানুষের কোনও অস্তিত্ব ছিলো না, পরবর্তীতে তিনি মানুষ সৃষ্টি করে পৃথিবীতে নিয়ে এসেছেন এবং আবার মৃত্যু দিয়ে এখান থেকে নিয়ে যাবেন। এই মধ্যখানের যে সময়টুকু নানা কর্মের সুযোগ মানুষকে দেওয়া হল, এই পরীক্ষায় তার ভালো মন্দের পূর্ণ হিসাব নিয়েই মহান রাব্বুল আলামীন আখেরাতে ফল স্বরূপ জান্নাত বা জাহান্নাম নির্ধারিত করবেন। এ পৃথিবীতে আমরা সকলেই পরীক্ষা দেওয়ার জন্যই এসেছি। আর পরীক্ষার সবচেয়ে বড় উপাদান হচ্ছে আমাদের জান ও মালের ব্যবস্থাপনা।










