বুধবার | ১৪ জানুয়ারি | ২০২৬
spot_img

পুনরায় সংবিধান পরিবর্তনের আকাঙ্খা ব্যক্ত করলেন এরদোগান

পুনরায় সংবিধান পরিবর্তনের আকাঙ্খা ব্যক্ত করলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট ও মুসলিম বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা রজব তাইয়েব এরদোগান।

সম্প্রতি ১৯৮০ সালে সামরিক অভ্যুত্থান পরবর্তী ১৯৮২ তে স্বৈরাচারদের প্রণয়নকৃত সংবিধান পরিবর্তনের গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।

এরদোগান বলেন, তুরস্ককে অভ্যুত্থানকালীন সংবিধান থেকে মুক্তি দিয়ে এর পরিবর্তে গণতান্ত্রিক, উদার জনমুখী ও বিস্তৃত সংবিধান প্রণয়ন করা উচিত। কেননা বর্তমান সংবিধান প্রকৃতপক্ষে ১৯৮২ সালে স্বৈরাচারদের প্রণয়নকৃত সংবিধানের খসড়ার অনুসরণ করে আসছে। অবশ্য এতে কিছু পরিবর্তনও আনা হয়েছে। অথচ ১৯৮০ এর অভ্যুত্থান এখন পর্যন্ত তুরস্কের রাজনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ও রক্তাক্ত অভ্যুত্থান বলে গণ্য হয়। অভ্যুত্থান ও অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে হাজার হাজার বেসামরিক তুর্কিদের নির্যাতন ও হত্যা করেছিলো তৎকালীন সামরিক জান্তা সরকার। বিচারের আওতায় আনা বেসামরিক তুর্কিদের পরিমাণ ছিলো আরো অনেক বেশি।

সংবিধান পরিবর্তনে আমরা সকলের স্বাধীনতা ও অধিকারকে প্রাধান্য দিয়ে একটি প্রাথমিক খসড়া ও পরিকল্পনা সাজিয়েছি। নিরাপত্তা, সুষ্ঠ বিচার, বাকস্বাধীনতা, নারী ও প্রতিবন্ধীদের অধিকার কেন্দ্রিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতেই এসব বিষয়ে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। কেননা এসব অধিকার কেন্দ্রিক স্বাধীনতা নীতিতে এমনকিছু সংযুক্তি আনা হয়েছিলো যা এসব অধিকার বাস্তবায়নের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অধিকার কেন্দ্রিক স্বাধীনতা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমলাতন্ত্রের বিপর্যয় সৃষ্টি করছে।

আর অধিকার বাস্তবায়ন কেন্দ্রিক এসব ত্রুটি আমাদের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে নয় বরং বিভিন্ন মানবাধিকার পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক কমিটির পর্যবেক্ষণ ও প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সনাক্ত করা হয়েছে। এর ভিত্তিতেই আমাদের খসড়া ও পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।

সংবিধানে পরিবর্তন আনতে যে খসড়া ও পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে তার আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো মনুষ্য বা মানব মর্যদা। কেননা সকল অধিকারের গোড়ায় মানব মর্যাদাই হয়ে থাকে মূল উদ্দেশ্য। জনসেবায় সকলের জন্য সৎ , নিরপেক্ষ ও সমঅধিকার এবং আইনের সক্রিয় সুরক্ষাও এই খসড়া ও পরিকল্পনার অন্যতম অংশ।

এছাড়া অধিকার ও স্বাধীনতার রক্ষাকবচ হিসেবে সকল ক্ষেত্রে আইনের শাসন সুদৃঢ় করা হবে। সমালোচনা বা চিন্তার প্রকাশের কারণে কেউ যেনো তার অধিকার ও স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত না হয় সে বিষয়টিও নিশ্চিত করা হবে।

১৪ ও ২৮ মে’র নির্বাচনে পুরোনো সংসদ ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়াকে প্রত্যাখ্যান করায় তুর্কি জনগণের প্রতি অনেক উচ্ছাসও প্রকাশ করেন এরদোগান। কেননা জনগণ বুঝতে পেরেছে যে সংসদ ব্যবস্থায় পরিবর্তন তুরস্কের উন্নতির অন্তরায় নয় বরং সহায়ক। নতুন সংসদ ব্যবস্থার অধীনেই তুরস্ক আজ পরাশক্তিধর রাষ্ট্রে পরিণত হতে চলেছে।

কার্যনির্বাহী প্রেসিডেন্ট ব্যবস্থার প্রতি উচ্ছাস প্রকাশ করে তিনি বলেন, ১৪ এবং ২৮ মে নির্বাচনে তুর্কি জনগণ তাদের ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। তারা পুরোনো সংসদ ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। সংসদ ব্যবস্থা নিয়ে নেতিবাচক যে আলোচনা ছিলো এর ফলে চিরতরে বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

মূলত, ২০১৭ সালে একটি গণভোটের পর সরকারে কার্যনির্বাহী এই প্রেসিডেন্ট ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছিলো। আর তা কার্যকর করা হয়েছিলো এর ১ বছর পর ২০১৮ সালে। কার্যনির্বাহী প্রেসিডেন্ট ব্যবস্থার কল্যাণেই দ্রুত ও খুব সুন্দর ভাবে নির্বাচন কেন্দ্রিক ক্ষমতার পালাবদল ঘটেছে। এই ব্যবস্থার সুবিধার কথা সরকারি কর্মকর্তারাদের মুখেমুখে। কেননা এই কার্যনির্বাহী প্রেসিডেন্ট ব্যবস্থা সরকারের কমতি ও দুর্বলতা দূর করে এবং রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম খুব সহজে সম্পাদনের দার উন্মুক্ত করে দেয়।

সূত্র: ডেইলি সাবাহ

spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ