ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের আল-খলিল শহরে ঐতিহাসিক ইব্রাহিমি মসজিদ মুসল্লিদের জন্য দুই দিন বন্ধ করে দিয়েছে দখলদার অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলি বাহিনী। অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে নিরাপত্তা নিশ্চিতের অজুহাতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মসজিদের আশপাশে কঠোর সামরিক বিধিনিষেধ আরোপ করায় দুটি বিদ্যালয়ের শিক্ষাকার্যক্রমও ব্যাহত হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) আল-জাজিরা ও ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার সকাল থেকে ইব্রাহিমি মসজিদ মুসল্লিদের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পর্যন্ত মসজিদটি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে দখলদার অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ।
মসজিদ বন্ধের পাশাপাশি আশপাশের সামরিক তল্লাশিচৌকি ও ইলেকট্রনিক প্রবেশপথগুলোও বন্ধ করে দিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। এতে ইব্রাহিমিয়া বালক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় এবং আল-ফাইহা বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষাকার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
একই সঙ্গে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের আল-খলিল শহরে প্রবেশের সুযোগ দিতে মসজিদের আশপাশে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন এবং পুরোনো শহরের বাজারমুখী কয়েকটি প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ইব্রাহিমি মসজিদ বন্ধের সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনের ধর্মবিষয়ক ও ওয়াকফ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতি মুসলমানদের অবাধে ইবাদতের অধিকার নিশ্চিত করতে জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।
ইব্রাহিমি মসজিদের পরিচালক মুতাসিম আবু স্নেইনাহ বলেন, মসজিদ বন্ধের ঘটনা চলমান উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং এর অবশিষ্ট অংশগুলো দখলে নেওয়ার প্রচেষ্টার অংশ।
তিনি বলেন, ইব্রাহিমি মসজিদের সব কক্ষ ও প্রাঙ্গণ মুসলমানদের ধর্মীয় স্থাপনা। মুসল্লিদের প্রবেশে বাধা দেওয়া আন্তর্জাতিক সনদে স্বীকৃত ধর্মীয় স্বাধীনতার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
ঐতিহাসিক ইব্রাহিমি মসজিদ ফিলিস্তিনের আল-খলিল শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থাপনা। মুসলিম, ইহুদি ও খ্রিষ্টান ঐতিহ্য অনুযায়ী, এখানে হযরত ইব্রাহিম (আ.), হযরত ইসহাক (আ.) ও হযরত ইয়াকুব (আ.)-এর সমাধি রয়েছে বলে বিশ্বাস করা হয়। প্রায় দুই হাজার বছরের ইতিহাসসমৃদ্ধ স্থাপনাটি আল-খলিলের পুরোনো শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। মসজিদসহ পুরোনো শহরটি ২০১৭ সালে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।
১৯৯৪ সালে এক অবৈধ ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীর গুলিতে ইব্রাহিমি মসজিদে নামাজরত ২৯ ফিলিস্তিনি নিহত হন। ওই হত্যাকাণ্ডের পর ইসরাইল মসজিদটি মুসলিম ও ইহুদি উপাসকদের জন্য পৃথক করে দেয়। মসজিদের ৬৩ শতাংশ ইহুদিদের এবং ৩৭ শতাংশ মুসলমানদের ব্যবহারের জন্য নির্ধারণ করা হয়।
এরপর থেকে বিভিন্ন ইহুদি ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে মুসল্লিদের প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করে আসছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ।
সূত্র : আল-জাজিরা, ওয়াফা নিউজ এজেন্সি











