বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, জুলাইযোদ্ধারা এই সময়ের মুক্তিযোদ্ধা। তিনি বলেছেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান মহান মুক্তিযুদ্ধেরই একটি অংশ। একই সঙ্গে তিনি জানান, জনগণের ভোটে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে শহীদ পরিবারের যোগ্য সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হবে এবং শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধাদের মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের আওতায় সহায়তা দেওয়া হবে।
আজ রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন নজরুল ইসলাম খান।
তিনি বলেন, “জুলাইযোদ্ধারা এই সময়ের মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধের যা কিছু আকাঙ্ক্ষা ছিল আমাদের, তা যদি পূরণ হতো তাহলে গত ১৭ থেকে ১৮ বছরে গণতান্ত্রিক লড়াই করতে গিয়ে আমাদের যে বহু নেতাকর্মী গুম, খুন, নিপীড়নের শিকার হয়েছে, সেটা হতো না। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে আমাদের এতো সন্তান, ভাই-বোন শহীদ হতো না, আহত হতো না। কাজেই চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধেরই একটি অংশ।”
বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, “আজ এই সভায় জুলাইযোদ্ধাদের পরিবারের সদস্যদের কষ্টের কথা শুনে, চোখের পানি দেখে আমাদের চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভাবছিলেন কিভাবে এই সমস্যা সমাধান করা যাবে। তিনি ভেবেছেন, জনগণের ভোটে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে এইসব শহীদ পরিবারের যারা যোগ্য মানুষ রয়েছেন, তাদেরই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হবে।”
তিনি বলেন, “চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্বজনদের দায়িত্ব দেওয়া হবে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের হত্যার বিচার এবং যারা আহত হয়েছেন তাদের সুচিকিৎসার। যা করার স্বজনরাই করবেন, সরকার তাদের সহায়তা করবে। প্রয়োজনে দায়িত্ব নেবে।”
তিনি বলেন, “বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় নামক একটি মন্ত্রণালয় তৈরি করেছিলেন। যা ১৯৭১ সালে যারা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন, সেসব মুক্তিযোদ্ধা পরিবারদের কল্যাণ তারা দেখভাল করে থাকে। দেশের মানুষের সমর্থনে আগামী দিনে বিএনপি সরকার গঠনে সক্ষম হলে শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধাদের এই মন্ত্রণালয়ের আওতায় সহায়তা দেওয়া হবে।”
নজরুল ইসলাম খান বলেন, “যারা দেশের জন্য জীবন দিয়েছে, আমরা যদি তাদের শ্রদ্ধা করতে না পারি, তবে আর কেউ দেশের বিপদে ছুটে আসবে না। জীবন দেবে না।”
তিনি বলেন, “আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন। বেগম খালেদা জিয়া স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করে দেশকে মুক্ত করেছেন। তারেক রহমানকে ১৭ বছর বিদেশে থাকতে বাধ্য করা হয়েছে। তবুও তিনি দেশের মানুষের খোঁজ রেখেছেন। শহীদ পরিবারের সাথে তার আত্মার সম্পর্ক রয়েছে।”
শহীদ পরিবারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি ভরসা রাখুন। তিনি আপনাদের ভুলে যাবেন না।”
বিএনপির সহ দফতর সম্পাদক আবদুস সাত্তার পাটোয়ারীর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, আমরা বিএনপি পরিবার এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমনসহ শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত ব্যক্তিরা বক্তব্য রাখেন।
সূত্র : বাসস











