বুধবার | ১৮ ফেব্রুয়ারি | ২০২৬
spot_img

আকসার ইমামকে গ্রেফতার করেছে ইসরাইল

মুসলিমদের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান মসজিদুল আকসার ইমাম শায়েখ মুহাম্মদ আব্বাসীকে গ্রেফতার করেছে ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) টিআরটি ওয়ার্ল্ডের এক প্রতিবেদনে একথা জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দখলকৃত ফিলিস্তিনের পবিত্র মসজিদুল আকসা প্রাঙ্গণ থেকে মসজিদটির ইমাম শায়েখ মুহাম্মদ আব্বাসীকে গ্রেফতার করেছে ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।

ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ডাব্লিউএএফএ (WAFA) স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানায়, ইসরাইলী বাহিনী আকসা মসজিদের আঙিনার ভেতর থেকে শায়েখ আব্বাসীকে গ্রেফতার করেছে। তবে তারা এই গ্রেফতারের কোনো কারণ উল্লেখ করেনি।

সংস্থাটি আরো জানায়, আল-আকসা মসজিদকে ঘিরে ইসরাইলের পদক্ষেপ যখন ক্রমেই কঠোরতর হচ্ছে, তখনই এই গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটল। এসব পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে সেখানে দায়িত্ব পালনরত ইমাম, খতিব ও অবস্থানকারী মুসল্লিদের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ, মুসল্লিদের প্রবেশে সীমাবদ্ধতা এবং ইসরাইলী পুলিশের কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে অবৈধ বসতি স্থাপনকারী উগ্র ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অনুপ্রবেশ বৃদ্ধি।

এর আগে এক সাক্ষাতকারে মসজিদুল আকসার সাবেক খতিব ও জেরুসালেমের গ্র্যান্ড মুফতি শায়েখ ইকরিমা সাবরি জানিয়েছিলেন যে, পবিত্র মাহে রমজানে মসজিদে আকসায় মুসলিমদের প্রবেশাধিকার আরো কমিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে গাজ্জায় গণহত্যা চালিয়ে যাওয়া ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল।

তিনি দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বলেছিলেন, “আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝিতে শুরু হতে যাওয়া পবিত্র রমজান মাসে মুসলমানদের জন্য মসজিদে আকসায় প্রবেশ সীমিত করার পরিকল্পনা করছে দখলদার ইসরাইলী প্রশাসন। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে অধিকৃত পূর্ব জেরুসালেমে মেজর জেনারেল আভশালোম পেলেদকে নতুন পুলিশ কমান্ডার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার মধ্য দিয়েই তাদের এই অসৎ উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়ে গেছে।”

“মুসলমানরা মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ অনুসরণে মুসলিমরা শাবান মাসের শেষে আশাবাদ নিয়ে রমজানকে স্বাগত জানায়। কিন্তু জেরুসালেমের ক্ষেত্রে আমরা দুঃখিত যে, দখলদার কর্তৃপক্ষ আল-আকসা মসজিদে আগত মুসল্লিদের উপর কঠোর ব্যবস্থা আরোপ করতে যাচ্ছে।”

“ইসরাইলী কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে বহু তরুণকে মসজিদে প্রবেশে বাধা দিয়েছে এবং ঘোষণা করেছে যে, অধিকৃত পশ্চিম তীর থেকে আগত ইবাদতকারীদের জন্য রমজানে কোনো শিথিলতা প্রদর্শন করা হবে না।”

“এর অর্থ হলো বিধিনিষেধ আরও কঠোর হবে। আল-আকসায় মুসল্লির সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় কম হবে। এটি ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিপন্থী এবং রোজার মাসে মুসলমানদের ইবাদতে বিঘ্ন ঘটাবে। অথচ প্রতিবছর রমজানে পশ্চিম তীর থেকে লক্ষ লক্ষ ফিলিস্তিনি অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে আল-আকসা মসজিদে নামাজ আদায় করতে ও শেষ দশকের ই’তেকাফ পালনের জন্য আসেন।”

“২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরাইলী কর্তৃপক্ষ সামরিক চেকপয়েন্টে কঠোরতা বাড়িয়েছে, যার ফলে পশ্চিম তীরের বাসিন্দাদের জেরুসালেমে প্রবেশ এমনিতেই সীমিত হয়ে পড়েছে।”

“গত দুই বছরে খুব অল্পসংখ্যক মানুষই ইসরাইলী সেনাবাহিনীর ইস্যু করা পারমিট পেয়েছেন, যা ফিলিস্তিনিদের মতে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। এ বছর রমজান উপলক্ষে কোনো বিশেষ ব্যবস্থার ঘোষণাও দেওয়া হয়নি।”

“কোনো সন্দেহ নেই যে সন্ত্রাসবাদী দখলদার সরকার আল-আকসা মসজিদ নিয়ে তাদের আগ্রাসী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চায়।”

“বহু বছর ধরে তারা অবাধে আকসায় প্রবেশ, প্রকাশ্যে ও উন্মুক্তভাবে (ইহুদি ধর্মীয়) নামাজ আদায়, ধর্মীয় শিঙ্গা ব্যবহার এবং সিজদা আদায়ের জন্য দাবি জানিয়ে আসছিলো, যা একসময় তাদের গোপন আকাঙ্ক্ষা ছিলো। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তা প্রকাশ্যে এসেছে।”

“আমরা বহুদিন ধরেই সতর্ক করে আসছি যে, ইসরাইল এই স্থানের উপর নিজেদের সার্বভৌমত্ব আরোপ করতে চায় এবং ইসলামিক ওয়াকফের কর্তৃত্ব কমাতে চায়।”

“তবে তাদের পদক্ষেপ শুধু আল-আকসা মসজিদেই সীমাবদ্ধ নয়। অধিকৃত পূর্ব জেরুসালেমের ফিলিস্তিনি পাড়াগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষত মসজিদের নিকটবর্তী এলাকার বাড়িঘর ভাঙার কার্যক্রমও শুরু করেছে।”

“বাড়িঘর ভাঙার নীতি একটি বর্ণবাদী, অন্যায়, অবৈধ ও অমানবিক নীতি। এটি ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে ফিলিস্তিনে ব্রিটেনের অন্যায় নীতিরই ধারাবাহিকতা।”

তিনি এসময় আরব ও মুসলিম বিশ্বের জনগণকে জেরুসালেম, মসজিদে আকসা ও ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি তাদের ধর্মীয় ও নৈতিক দায়-দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বানও জানিয়েছিলেন।

spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ