আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ বলেছেন, প্রতিবেশী তুরস্কের সঙ্গে যৌথ কার্যক্রম তাদের অঞ্চল ও এর বাইরেও স্থিতিশীলতা আরও জোরদার করছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে তুর্কি রাষ্ট্রগুলোর সংগঠন (ওটিএস) সদস্য দেশগুলোর নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
ইলহাম আলিয়েভ বলেন, আজারবাইজান ও তুরস্কের মধ্যকার সম্পর্ক ‘বিশেষ স্থান দখল করে আছে এবং বিশেষ ভূমিকা পালন করছে’।
বিশ্বের কোথাও ‘এ ধরনের অনুরূপ সম্পর্ক নেই’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, একে অপরের সঙ্গে এত ঘনিষ্ঠভাবে আবদ্ধ এমন দ্বিতীয় কোনো জোড়া দেশ খুঁজে পাওয়া অসম্ভব। ঐতিহাসিক সম্পর্ক, সাংস্কৃতিক বন্ধন এবং জনগণের মধ্যকার সম্পর্কসহ অসংখ্য বিষয় দুই দেশকে একত্র করেছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, আজ তুরস্ক-আজারবাইজান সম্পর্ক আমাদের অঞ্চল এবং বৃহত্তর বিশ্বে একটি ঐক্যবদ্ধ পরিসর হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আমাদের যৌথ কার্যক্রম আমাদের অঞ্চল ও এর বাইরেও স্থিতিশীলতা আরও জোরদার করছে, বিশেষ করে বর্তমান কঠিন ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে।
ইলহাম আলিয়েভ ২০২১ সালে আঙ্কারার সঙ্গে স্বাক্ষরিত শুশা ঘোষণাকে ‘আমাদের সম্পর্কের সর্বোচ্চ শিখর’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ওই ঘোষণা স্বাক্ষরের আগে দুই দেশ মিত্র ছিল। তবে এই ঘোষণার মাধ্যমে তাদের মিত্রতা আনুষ্ঠানিক রূপ পায়।
তিনি বলেন, সেই দিনের পর পাঁচ বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। প্রতি বছর ও প্রতি মাস অতিবাহিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের ঐক্য আরও শক্তিশালী হচ্ছে এবং বিশ্বে আমাদের ভূমিকা আরও সুদৃঢ় হচ্ছে।
২০২১ সালের ১৫ জুন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান আজারবাইজানের দক্ষিণ ককেশাস অঞ্চলের ঐতিহাসিক শুশা শহর সফর করেন। সেখানে তিনি আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভের সঙ্গে ‘শুশা ঘোষণা’ নামে একটি মিত্রতা চুক্তি স্বাক্ষর করেন। এর মাধ্যমে দুই দেশের বিদ্যমান মিত্রতা আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায়। ঘোষণায় দুই দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, জ্বালানি ও পরিবহনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের অঙ্গীকার করা হয়।
আলিয়েভ বলেন, ওটিএসের সদস্য দেশগুলোর নেতাদের মধ্যে সংগঠনটির আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভূমিকা ও অবস্থান আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে।
তিনি বলেন, সদস্য দেশগুলোর সম্ভাবনা অত্যন্ত ব্যাপক এবং তা ক্রমাগত বাড়ছে। এসব দেশ বিস্তীর্ণ ভৌগোলিক অঞ্চলে অবস্থিত, যার মধ্য দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও পরিবহন রুট এবং করিডোর অতিক্রম করেছে।
তিনি আরও বলেন, “ওটিএস অঞ্চলের পশ্চিম ও পূর্বে আমাদের সংগঠনকে অত্যন্ত আগ্রহ ও গভীর মনোযোগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিষয়ে ইতিবাচক ভূমিকা জোরদারের পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থা, পরিবহন নিরাপত্তা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সাধারণভাবে নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়েও সংগঠনটি ভূমিকা রাখছে।”
আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট বলেন, আমি আত্মবিশ্বাসী যে আজকের কাউন্সিল বৈঠকেও এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। কারণ আজ জ্বালানি নিরাপত্তা ও পরিবহন সংযোগ ছাড়া সামগ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলা প্রায় অসম্ভব।
তিনি বলেন, সদস্য দেশগুলোতে বিরাজমান স্থিতিশীলতা, শান্তি ও নিরাপত্তা ওটিএসের সফল বিকাশের অন্যতম প্রধান কারণ। তার মতে, বর্তমান রাজনৈতিক ও পররাষ্ট্রনীতির বাস্তবতায় এটি উন্নয়নের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
তিনি আরও বলেন, এটি সুপরিচিত যে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা ছাড়া কোনো দেশই উন্নতি করতে পারে না। কোনো দেশে স্থিতিশীলতা কিংবা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা না থাকলে সেখানে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি কিংবা উদ্ভাবন কোনোটিই আসবে না। তাই আজ এটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা আমাদের দেশগুলোকে আমাদের আশপাশের অনেক অঞ্চল থেকে আলাদা করে, যেসব অঞ্চলে আমরা অবস্থিত।”
আলিয়েভ বলেন, ওটিএসের সদস্য দেশগুলো শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে। বিশেষ করে বিশ্বের বিভিন্ন অংশে যখন এর বিপরীত প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তখনই এসব দেশ শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রদর্শন করছে।
তুর্কি রাষ্ট্রগুলোর সংগঠন বা ওটিএস ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০২১ সালে ইস্তাম্বুল সম্মেলনে সংগঠনটি বর্তমান নাম গ্রহণ করে। তুরস্ক, আজারবাইজান, কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান ও কিরগিজস্তান এর সদস্য। তুর্কমেনিস্তান, হাঙ্গেরি এবং উত্তর সাইপ্রাসের তুর্কি প্রজাতন্ত্র পর্যবেক্ষক মর্যাদা ধারণ করে।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি











