বিএনপির মুখে জুলাই সনদ থাকলেও অন্তরে আওয়ামী লীগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি প্রশ্ন করেছেন, জুলাই সনদের ৬৯ নম্বর প্রস্তাবনায় কোনো দলের নোট অব ডিসেন্ট না থাকলেও এটি বাস্তবায়নে বিএনপির সমস্যা কোথায়।
রোববার (১৮ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি আয়োজিত ‘জুলাই সনদের এক বছর’ উপলক্ষে মুক্ত আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
হাসনাত বলেন, “আপনারা মুখে বারবার বলছেন, জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবেন। কিন্তু ৬৯ নম্বর প্রস্তাবনায় তো কোনো দলেরই নোট অব ডিসেন্ট ছিল না। তাহলে এটি বাস্তবায়নে আপনাদের সমস্যা কোথায়?”
তিনি অভিযোগ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের ভাগিনারা ঘুষ-বাণিজ্য চালান। ওসি বা এসপি হতে চাইলে তার ভাগিনাকে ঘুষ দিলেই পদ পাওয়া যায় বলে দাবি করেন তিনি। হাসনাত বলেন, “কিন্তু সালাহউদ্দিন আহমেদ তো এটাই করেছেন। দেশে আবার সংকট তৈরি হলে তাদের খুঁজে পাওয়া যাবে না। সংকটের সময় যেমন তারা দেশে ছিলেন না, তেমনি পরে আবার অধ্যাপক হিসেবে আবির্ভূত হবেন।”
হাসনাত বলেন, জুলাই সনদের ৬২ নম্বর প্রস্তাবে তথ্য অধিকার আইন সংশোধনের কথা বলা হয়েছিল। নাগরিকরা যাতে সহজে সরকারি তথ্য পেতে পারেন, সে জন্য অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি তথ্য অধিকার আদেশ জারি করেছিল। সরকারি কেনাকাটায় অনিয়ম ও দুর্নীতি গোপন করতে না দেওয়া এবং এসব বিষয়ে অডিটের ব্যবস্থা করাই এর উদ্দেশ্য ছিল। কিন্তু বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসেই সেই অধ্যাদেশ বাতিল করে দেয় বলে দাবি করেন তিনি।
জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের বিএনপির বক্তব্যের সমালোচনা করে হাসনাত বলেন, “টিয়া পাখির মতো এই কথা কে শিখিয়ে দিয়েছে? দেখবেন, বিএনপি মন্ত্রিসভা ও সংসদের সবাই একই কথা বলবেন। কিন্তু একবার জিজ্ঞেস করে দেখুন, জুলাই সনদের কোন বিষয়টি অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন? ছেলের ঠিকাদারি, ছেলের নামে ইউনিয়ন করা আর ভাইয়ের মাধ্যমে ক্যাপ্টেন আনা ছাড়া বিএনপি আর কোন বিষয়টি অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছে?”
তিনি আরও বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের অর্ধেক ফলাফল বিএনপি মেনেছে, আর অর্ধেক মানেনি। আওয়ামী লীগের আমলে ২০১৪ সালে আসন চুরি, ২০১৮ সালে মধ্যরাতের নির্বাচন এবং ২০২৪ সালে আমি-ডামি নির্বাচনের অভিযোগ ছিল। আর বিএনপি নির্বাচনের ফলাফল চুরি করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
হাসনাতের দাবি, নিজেদের পক্ষে যাওয়া ফলাফল মেনে নিলেও গণভোটের ফলাফল মানেনি বিএনপি। সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথও নেয়নি। ফলে জুলাই সনদ কার্যকারিতা হারিয়ে অলংকারে পরিণত হয়েছে। অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের কথা বলেও গত সাত মাসে বিএনপি ১৭ বার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, চিফ হুইপ দম্ভ করে বলেছেন, তার ছেলেরা আমেরিকায় থাকে এবং সেখানে জন্মগতভাবে নাগরিকত্ব পেয়েছে। তারা সেখানেই থাকবে, দেশে নির্বাচনে অংশ নিতে আসবে না।
হাসনাত আরও বলেন, রাজনীতিবিদদের কাছে বাংলাদেশ যেন ব্যবসার উপলক্ষ। তারা স্বাস্থ্য সংস্কারের দায়িত্বে থাকলেও নিজেরা দেশে চিকিৎসা নেন না। শিক্ষা সংস্কারের দায়িত্বে থাকলেও তাদের সন্তানরা দেশে পড়াশোনা করে না, থাকে আমেরিকায়। অথচ তারা জনগণের সেবা করার কথা বলেন। এ ধরনের রাজনীতিবিদদের প্রতারক আখ্যা দিয়ে সমালোচনা করেন তিনি।











