রেল যোগাযোগ স্থাপনে চুক্তি সাক্ষর করলো পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও উজবেকিস্তান। মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) ইসলামাবাদে এই চুক্তি সাক্ষরিত হয়।
দেশগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়, আফগানকে ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করে পাকিস্তান থেকে উজবেকিস্তান পর্যন্ত পণ্য ও যাত্রী আনা-নেওয়ার কাজ সহজতর করার লক্ষ্যে ট্রান্স আফগান রেল সংযোগ প্রকল্প চুক্তি সাক্ষরিত হয়েছে। এতে করে পণ্য ও যাত্রী আনা-নেওয়ার সময় সাধারণের তুলনায় ৫দিন ও খরচ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রেলপথে এই ৩ দেশকে সংযুক্ত করতে আনুমানিক ৭৬০ কিলোমিটার দৈর্ঘের রেলপথ নির্মাণ করা হবে বলেও জানানো হয়। এই রেলপথ উজবেকিস্তানের তিরমিজ থেকে শুরু করে আফগানিস্তানের মাজার-ই-শরীফ ও লোগার প্রদেশ হয়ে পাক-আফগান সীমান্ত সংলগ্ন খুররাম উপজাতি জেলার খারালচি বর্ডার ক্রসিংয়ের মাধ্যমে পাকিস্তানে গিয়ে পৌঁছবে।
২০২৭ সালে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করে ২০৩০ সাল নাগাদ যাত্রী ও পণ্য আনা-নেওয়ার কাজে রেলপথটি চালু করে দেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছে এই ৩ দেশের রেল কর্তৃপক্ষ। ১৫ মিলিয়ন টনেরও বেশি পণ্য এই পথে একসাথে আনা-নেওয়া করা সম্ভব বলেও জানান তারা।
ইসলামাবাদে অবস্থিত আফগান দূতাবাস একে ঐতিহাসিক চুক্তি আখ্যা দিয়ে এক টুইট বার্তায় জানায়, তিরমিজ-লোগার-খারালচি রেলপথ নির্মাণ চুক্তি সম্পাদন করতে পেরে আমরা খুবই আনন্দিত।
ঐতিহাসিক এই অর্জন তালেবান নেতৃত্বাধীন সরকারের আঞ্চলিক সহযোগিতার যে প্রতিশ্রুতি ছিলো তা জোরদার করে। প্রতিশ্রুতি রক্ষার বাস্তব উদাহরণ। এটি ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তান, রিপাবলিক অফ উজবেকিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের উন্নয়নে সহায়তা করবে। এই প্রকল্পটি এই অঞ্চলের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও বিশাল সম্ভাবনা রাখে।
আনুষ্ঠানিক চুক্তি সাক্ষরিত হওয়ায় নিখুঁত পরিকল্পনা সাজানো, প্রকল্পে বরাদ্দ ও প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব আমাদের সবার কাঁধে চলে এসেছে। শক্তিশালী আঞ্চলিক সংযোগ স্থাপনে এখন যা দরকার তা হলো আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও ত্যাগ-তিতিক্ষা।
উল্লেখ্য, ইসলামাবাদে চুক্তি সাক্ষর অনুষ্ঠানটিতে ৩দেশের উচ্চ পদস্থ রেল কর্মকর্তাদের পাশাপাশি পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী ইসহাক দার ও রেলমন্ত্রী সা’দ রফিকও উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত বুধবার (১১ জুলাই) ইরান হয়ে তুরস্ক পর্যন্ত রেল সংযোগও স্থাপন করে তালেবান নেতৃত্বাধীন সরকারের কার্যকরী পদক্ষেপে সমৃদ্ধির পথে হাটতে থাকা দেশ আফগানিস্তান।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড










