spot_img

জুলাইয়ের শক্তির অনৈক্যে পরাজিতদের ফিরে আসার সুযোগ তৈরি হচ্ছে: মঞ্জু

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিজয়ী শক্তিগুলোর মধ্যে অনৈক্য ও দ্বন্দ্ব পরাজিতদের আবারও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।

শনিবার (১৮ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার অডিটোরিয়ামে সেন্ট্রাল ফর বেঙ্গল স্টাডিজের (সিবিএস) উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই-উত্তর রাজনীতি: গতি ও গত্যন্তর’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, রাষ্ট্র সংস্কার ও শাসনব্যবস্থা নিয়ে মতভেদ থাকতে পারে। তবে জুলাই প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। একই সঙ্গে ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসনের যেকোনো চেষ্টা প্রতিহত করার আহ্বান জানান তিনি।

আলোচনা সভায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ড. সাজ্জাদ হোসাইন বলেন, জুলাইকে মুছে ফেলার একটি সংস্কৃতি চলমান রয়েছে। বিশেষ করে কিছু সিনিয়র সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবী নামধারী ব্যক্তি টকশো ও লেখালেখির মাধ্যমে জুলাইকে অস্বীকার করতে চান। তাদের বিপরীত প্রশ্নে বিদ্ধ করতে হবে। এ ধরনের অস্বীকারের রাজনীতি নতুন বাংলাদেশে স্থায়ী হবে না। নতুনদের রাজনীতিই জুলাইকে বাঁচিয়ে রাখবে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক সরওয়ার তুষার ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিটির প্রস্তাবনার সমালোচনা করে বলেন, এর মাধ্যমে মূলত ‘ডিনাই অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন’ পদ্ধতিতে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের বন্দোবস্ত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, অনেকে ইনিয়ে-বিনিয়ে আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করতে দেওয়ার কথা বলছেন। কিন্তু গণহত্যাকারী কোনো দলকে পুনর্বাসনের উদাহরণ নেই। হাসিনা ফিরে আসার সাহস পাবে না। কোনো ধরনের অভিবাদন তো দূরের কথা, তার নসিবে জানাজাও থাকবে না।

গবেষক ড. শিব্বির আহমদ ফ্যাসিবাদের সাংস্কৃতিক ও একাডেমিক কাঠামো ভাঙার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, আওয়ামী লীগ সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রোপাগান্ডানির্ভর যে সাংস্কৃতিক ও একাডেমিক স্বৈরাচারী কাঠামো দাঁড় করিয়েছিল, তা এখনো তাদের পুনর্বাসনের পক্ষে কাজ করছে।

তিনি বলেন, জার্মানিতে যেভাবে ‘ডি-নাজিফিকেশন’ করা হয়েছিল, বাংলাদেশেও তেমনি ‘ডি-আওয়ামীফিকেশন’ করতে হবে।

তিনি আরও বলে, আগামীর নতুন রাজনীতি দীর্ঘায়িত করতে হলে আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে জুলাইয়ের শক্তিকে নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, জুলাই আন্দোলনের মূল স্পিরিট নানাভাবে হাইজ্যাক করা হয়েছে। জুলাইয়ে মাদরাসার ছাত্ররাসহ আমরা জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছি। আমরা শুনছি, হাসিনা নাকি দেশে ফিরে আসবে এবং অনেকে তাকে সংবর্ধনা জানানোর কথা চিন্তা করছেন। হাসিনা দেশে ফেরার সাহস পাবে না। আর যদি আসে, তবে হাজারো মানুষ হত্যার দায়ে তাকে ফাঁসিতে ঝুলতে হবে।

তিনি বলেন, ৫ মে শাপলা চত্বরের গণহত্যার দায়ে আমি নিজে তার বিরুদ্ধে মামলা করেছি। নতুন বাংলাদেশ ও বিপ্লবের স্বপ্ন নিয়ে নতুনদেরই এগিয়ে আসতে হবে।

ফরহাদ হোসাইনের সঞ্চালনায় সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সিবিএসের ডিরেক্টর আবদুল্লাহ আল মাহমুদ। উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও রাজনীতি-সচেতন ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বের মধ্য দিয়ে আলোচনা সভা শেষ হয়।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ