আফগানিস্তানের সেনাপ্রধান কারী ফসিহউদ্দিন ফিতরাত বলেছেন, শত্রুদের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির হুমকি ও কঠিন ঝুঁকির মধ্যেও ইমারাতে ইসলামিয়া কখনো মুজাহিদীনদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া থেকে পিছপা হয়নি। তিনি বলেন, “যে শত্রুরা একসময় আমাদের বিরুদ্ধে অত্যাধুনিক অস্ত্র, ট্যাংক এবং বিমান ব্যবহার করত, আজ আল্লাহর রহমতে সেই সরঞ্জামগুলো আমাদের হাতে এবং আমরা সেগুলো আমাদের নিজেদের সামরিক প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহার করছি।”
তিনি আরও বলেন, এই পরিস্থিতি তাদের জন্য বড় সুযোগ। তিনি জানান, ফেলে যাওয়া অত্যাধুনিক সরঞ্জামগুলো এখন সামরিক প্রশিক্ষণ, মহড়া এবং অন্যান্য সামরিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে আফগান সেনাপ্রধান গত ২০ বছরের দীর্ঘ ও কঠিন যুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে বলেন, দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের পর আল্লাহ মুজাহিদীনদের বিজয়ী করেছেন; যারা নিজেদের পৃথিবীর একমাত্র পরাশক্তি মনে করত, তাদের আফগানিস্তান থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আজ আমরা এমন এক অবস্থায় আছি, যা আগে কখনো কল্পনাও করিনি। শত্রুরা একসময় আমাদের বিরুদ্ধে যে অত্যাধুনিক অস্ত্র, সরঞ্জাম, ট্যাংক এবং বিমান ব্যবহার করত, আজ সেগুলো আমাদের হাতে।”
আফগান সেনাপ্রধান বলেন, একসময় তাদের কাছে সাধারণ ক্লাশিনকোভ রাইফেল ছাড়া আর কিছু ছিল না; বড় অস্ত্র বা আধুনিক প্রযুক্তি ছিল না। কিন্তু শত্রুদের কাছে ছিল ট্যাংক, বিমান এবং অন্যান্য আধুনিক সমরাস্ত্র। তিনি বলেন, সেই দুর্বল অবস্থাতেও তারা লড়াই করেছেন এবং আল্লাহ বিজয় দান করেছেন।
আফগান সেনাপ্রধান অস্ত্র চালনার প্রশিক্ষণের পাশাপাশি আধ্যাত্মিক ও নৈতিক প্রশিক্ষণের ওপরও বিশেষ জোর দেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, মুসলমানদের যেকোনো সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হলো কোরআন ও সুন্নাহর পূর্ণ অনুসরণ করা। বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, শত্রুরা ইমারাতে ইসলামিয়ার সেনাবাহিনীর বর্তমান শক্তি এবং ইসলামিক ব্যবস্থাকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না। তিনি বলেন, এ কারণেই তারা মানুষের মনে ইমারাতে ইসলামিয়া সম্পর্কে ভুল ধারণা ও নেতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
ভাষণে তিনি একটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, যে ৩১৩ কোর ঘাঁটিতে তারা দাঁড়িয়ে আছেন, সেটি একসময় পূর্ববর্তী সরকারের ১১১তম ডিভিশনের মূল ঘাঁটি ছিল। ২০১২ ও ২০১৩ সালের দিকে এই ঘাঁটি থেকেই বাদাখশান প্রদেশে মুজাহিদীনদের ওপর হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল, যেখানে অনেক মুজাহিদীন শহীদ হন। তিনি বলেন, আজ সাধারণ অস্ত্রধারী মুজাহিদীনরা সেই অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন শত্রুদের হটিয়ে ঘাঁটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে এবং তাদেরই অস্ত্র-সরঞ্জাম দিয়ে নিজেদের প্রস্তুত করছে।
আফগান সেনাপ্রধান আফগান জনগণের প্রতি সেনাবাহিনীর দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষ গত সাড়ে চার দশক ধরে যুদ্ধ, ষড়যন্ত্র এবং বাস্তুচ্যুতির কারণে চরম কষ্ট সহ্য করেছে। তাই জনগণের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের প্রতি দয়া ও সহানুভূতি দেখানো সামরিক বাহিনীর একটি পবিত্র দায়িত্ব, যাতে দেশের মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারে।
দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যেকোনো সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় সামরিক প্রস্তুতি এবং সঠিক অস্ত্রশস্ত্র রাখা তারা জাতীয় ও ধর্মীয় দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করে। মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, নেতৃবৃন্দ ঐতিহাসিকভাবে এই প্রস্তুতি নিশ্চিত করে এসেছেন এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।











