তুরস্ক এবং তুর্কিয়ে অধ্যুষিত উত্তর সাইপ্রাসের ভূমধ্যসাগরীয় অধিকার রক্ষায় আঙ্কারা কোনো ছাড় দিবে না বলে জানিয়েছেন তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেভদেত ইয়েলমাজ।
রবিবার (১৮ জুন) উত্তর সাইপ্রাস সফরকালে এক টেলিভিশন সাক্ষাতকারে একথা বলেন তিনি।
তুরস্কের নবনির্বাচিত এই ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, তুরস্ক এবং টিআরএনসি (টার্কিশ রিপাবলিক অফ নর্দার্ন সাইপ্রাস) আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী পূর্ব ভূমধ্যসাগরের যে অধিকার পেয়েছে তা রক্ষায় কখনোই ছাড় দিবে না আঙ্কারা।
পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল ভৌগোলিকভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা অনেক দেশের স্বার্থ জড়িয়ে আছে ভূমধ্যসাগরকে কেন্দ্র করে। ঐতিহাসিকভাবে এর অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও রয়েছে।
তুরস্ক এবং টিআরএনসিকে ভূমধ্যসাগরীয় অধিকার থেকে বঞ্চিত করার জোর প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিলো। কিন্তু তুরস্ক কৌশলে সেসব অপচেষ্টা ব্যর্থ করে দিতে সক্ষম হয়। সফল হয় অধিকার রক্ষায়। ২০১৯ সালের শেষ দিকে লিবিয়ার সাথে যে সামুদ্রিক সীমান্ত চুক্তি হয়েছিলো সেটি আমাদের কৌশলেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলো। এর ফলে পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় সমীকরণে টিকে যায় তুরস্ক। ব্যর্থ হয় তুরস্ক ও তুর্কিয়ে বিহীন নতুন পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় সমীকরণ সাজানোর পরিকল্পনা।
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী পাওয়া সামুদ্রিক অধিকার রক্ষায় ২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর দুটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছিলো তুরস্ক এবং লিবিয়া। নিরাপত্তা, সামরিক সহযোগিতা এবং সামুদ্রিক এখতিয়ারের ক্ষেত্রগুলো সংজ্ঞায়িত করার বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিলো।
এই অঞ্চলের দেশগুলোকে, বিশেষত গ্রীস এবং সাইপ্রাসকে আহবান জানাচ্ছি, তারা যেনো প্রাকৃতিক শক্তি খাতে এই অঞ্চলের যে অপার মজুদ আছে তা থেকে অঞ্চলের সকলকে উপকৃত হওয়ার সুযোগ দেয়। অন্যান্যদের অধিকার খর্বের চেষ্টা না করে।
এছাড়া গ্রীস ও সাইপ্রাস (গ্রীক অধ্যুষিত সাইপ্রাস) কর্তৃক মূল পূর্ব ভূমধ্যসাগরের একক মালিকানা ও আধিপত্য বিস্তারের অপচেষ্টার নিন্দা জানায় তুরস্ক।
জেভদেত ইয়েলমাজ আরো বলেন, দেশ দু’টির একতরফাবাদ এই অঞ্চলে তুরস্ক ও তুর্কিয়ে সাইপ্রাসের অধিকার এবং স্বার্থকে উপেক্ষা করছে। আমরা তাদেরকে এধরণের একতরফা কর্মকাণ্ড থেকে ফিরে আসার আহবান জানাই। আহবান জানাই, এই অঞ্চলের সম্পদ ন্যায্যভাবে অন্যান্যদের সাথে ভাগ করে নেওয়ার।
সূত্র: আল জাজিরা নেট











