গত মাসে অবরুদ্ধ গাজ্জা উপত্যকায় ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের গণহত্যামূলক যুদ্ধের সমাপ্তি ও বন্দি বিনিময়ের বিষয়ে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বৈঠকে বসেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল, কাতার ও মিশরের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা। পরবর্তীতে গত ৭ ফেব্রুয়ারি, এই বৈঠকের ভিত্তিতে তৈরি করে ইসরাইলের কাছে একটি চুক্তির প্রস্তাব দেয় ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস। তবে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে রাজি হয়নি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সিনিয়র সদস্য খলিল আল হাইয়া কাতারভিত্তিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানিয়েছেন, “গত সপ্তাহে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে অস্বীকার করেছে নেতানিয়াহু সরকার। সেই সঙ্গে এই চুক্তিটিকে ‘ভ্রমপূর্ণ’ হিসেবেও উল্লেখ করেছে নেতানিয়াহু।”
আল হাইয়া বলেন, গাজ্জা থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের বিষয়টিও অস্বীকার করেছেন নেতানিয়াহু। পাশাপাশি বাস্তচ্যুত ফিলিস্তিনিদের নিজস্ব বাড়িতে ফিরে যেতে দিতেও রাজি হননি তিনি।
হামাসের সিনিয়র সদস্য আরো জানিয়েছেন, এই চুক্তির মোট তিনটি মূল্য রয়েছে। প্রথমত, ইসরাইলি বন্দীদের মুক্তির বিনিময়ে গাজ্জার ফিলিস্তিনিরা স্বস্তি ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে। দ্বিতীয়ত, এর মাধ্যমে গাজ্জায় ইসরাইলি আগ্রাসন বন্ধ হবে। তৃতীয়ত, ইসরাইলি কারাগারে থাকা ১০ হাজার ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দিবে তেল আবিব।
প্রসঙ্গত, চুক্তি অনুযায়ী, মোট তিনটি পর্যায়ে ১৩৫ জন ইসরাইলি বন্দিদের মুক্তির দাবি করেছিল হামাস। যার প্রতিটি পর্যায়ের মেয়াদকাল হল ৪৫ দিন। এই চুক্তির শর্তাবলির মধ্যে ছিল বন্দী বিনিময়, গাজ্জার পুনর্গঠন শুরু করা, গাজ্জা থেকে সম্পূর্ণরূপে ইসরাইলি বাহিনী প্রত্যাহার ও মৃতদেহ বিনিময়।
আল হাইয়া আরো বলেন, গাজ্জায় ইসরাইলের অন্যতম লক্ষ্য ছিল বন্দিদের মুক্তি ও হামাসকে নির্মূল করা। তবে তা করতে ব্যার্থ হয়েছে অবৈধ রাষ্ট্রটি। উত্তর ও মধ্য গাজ্জায় প্রতিরোধ বাড়াতে ব্যর্থ হয়েছে ইসরাইল। আর ঠিক একইভাবে রাফাহতেও ব্যর্থ হবে তারা।
তিনি আরো বলেন, “ইসরাইলের এমন অপরাধের মুখে যে নৈতিক পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছিল গোটা বিশ্ব, তাতে তারা ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। আজ তারাই উপলব্ধি করতে পারছে যে, একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠন ছাড়া এই অঞ্চলে শান্তি ফিরে আসবে না।”
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে রাফাহ শহর থেকে ২ জন বন্দীকে মুক্ত করতে সক্ষম হয় ইসরাইলি বাহিনী। ইসরাইলের বিশ্বাস, হামাসের কাছে এখনো ১৩৪ জন বন্দী রয়েছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর











