নরসিংদীর রায়পুরায় দুর্গম চরাঞ্চল চাঁনপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিতদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
আজ শুক্রবার (২১ মার্চ) ভোরে ব্রাক্ষণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার সীমান্ত এলাকা রায়পুরা উপজেলার চাঁনপুর ইউনিয়নে মোহিনীপুর গ্রামে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। এতে ১ জন গুলিবিদ্ধসহ ২ জন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে বেশ কয়েকজন।
নিহতরা হলেন- মোহিনীপুর গ্রামের খোরশেদ মিয়ার ছেলে আমিন (২৩) ও একই গ্রামের বারেক হাজির ছেলে বাশার (৩৫)। তারা দুইজনই আওয়ামী লীগ সভাপতি সালাম মিয়ার সমর্থক বলে জানা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চাঁনপুর ৯ নাম্বার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর সালাম মিয়া ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সোহাগের সঙ্গে একই ইউনিয়নের বিএনপির সভাপতি সামসু মেম্বারের দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এর জেরে বিএনপি নেতা সামুস মেম্বার ও তার সমর্থকদের এলাকা ছাড়া করান সামসু মিয়া।
৫ আগষ্টের পর সামসু মেম্বার ও তার সমর্থকরা এলাকায় ফিরে আসে। এরপর দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। দুপক্ষের মধ্যে মারামারি ও গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে। এরপর সালাম মিয়ার সমর্থকদের এলাকা ছাড়া করে বিএনপি নেতা সামসু মেম্বার।
শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে সালাম মিয়া ও তার সমর্থকরা এলাকায় ফিরতে চায়। এতে বাধা দেয় সামসু মেম্বার ও তার লোকজন। পরে টেঁটা, বল্লম দা, ছুরি, ককটেল ও বিভিন্ন রকমের দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুপক্ষ সংর্ঘষে জড়িয়ে পড়ে। এতে প্রতিপক্ষের ছোঁড়া গুলিতে এবং টেঁটা ও ছুরিকাঘাতের আঘাতে দুজন প্রাণ হারান। আহত হয় উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন। খবর পেয়ে রায়পুরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দেয়। তবে এলাকাটি দুর্গম চরাঞ্চল হওয়ায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সেখানে পৌঁছাতে পারেনি পুলিশ
রায়পুরা থানার ডিউটি অফিসার এসআই জুবায়ের বলেন, ‘সংঘর্ষে দুজনের নিহত হওয়ার খবর পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ যাচ্ছে।’
রায়পুরা থানার ওসি আদিল মাহামুদ বলেন, ‘আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সামসু মেম্বার ও সালাম মিয়ার কর্মী-সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়ায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।’