spot_img
spot_img

টেকসই গণতন্ত্রে জবাবদিহিতা ও নির্বাচনি ব্যয় নিয়ন্ত্রণের তাগিদ আনফ্রেলের

নির্বাচন-পরবর্তী শাসনব্যবস্থায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত, নির্বাচনি অর্থ ব্যয় কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনীতিকে প্রভাবমুক্ত রাখার ওপর বিশেষ তাগিদ দিয়েছে এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস বা আনফ্রেল।

সংস্থাটি মনে করে, টেকসই ও সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে এই তিনটি ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন আনা জরুরি।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে আনফ্রেলের নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের প্রধান রোহানা হেট্রিয়ারাচ্ছি এসব মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের নির্বাহী পরিচালক ব্রিজা, নির্বাচন বিশ্লেষক কার্লো আফ্রিকা, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন এবং ইসি সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

আনফ্রেলের চূড়ান্ত মূল্যায়নে বলা হয়, নির্বাচনের দিন ভোটগ্রহণ মোটামুটি সুশৃঙ্খল হলেও নির্বাচনি জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী সংকট রয়ে গেছে। বিশেষ করে নির্বাচনি অর্থায়ন, অতিরিক্ত ব্যয় এবং আইন প্রয়োগে অসামঞ্জস্য নিয়ে বিভিন্ন অংশীজন উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অনেক ক্ষেত্রে প্রচারণায় অনানুষ্ঠানিক ব্যয় ও অর্থের প্রভাব দৃশ্যমান ছিল। পোস্টার ও তারপলিন ব্যবহারের বিধি থাকলেও তার প্রয়োগে অসামঞ্জস্য দেখা গেছে। এতে নির্বাচন কমিশনের কার্যকারিতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

আনফ্রেল আরও জানায়, নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রের কাছে দলীয় প্রতীক ও প্রার্থীর ছবি সম্বলিত ভোটার স্লিপ বিতরণ করা হয়েছে। কিছু ভোটার ভোটকক্ষে প্রবেশের সময় সেই স্লিপ পোলিং এজেন্টদের সামনে প্রদর্শনও করেছেন।

পর্যবেক্ষকদের মতে, এই প্রক্রিয়া ভোট কেনাবেচা বা প্রভাব বিস্তারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচনের দিনের পরিবেশ তুলনামূলক শান্ত থাকলেও নির্বাচনপূর্ব সময়ে ভয়ভীতি, সহিংসতা এবং স্থানীয় প্রভাবশালীদের চাপ প্রয়োগের অভিযোগ ছিল। এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে সংস্থাটি।

অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণের বিষয়ে আনফ্রেল বলেছে, নারী ভোটারের উপস্থিতি সন্তোষজনক হলেও নারী প্রার্থীর সংখ্যা ছিল অত্যন্ত কম। এছাড়া সংখ্যালঘু, সুবিধাবঞ্চিত ও প্রতিবন্ধী ভোটারদের অংশগ্রহণে নানা প্রতিবন্ধকতা এবং ভয়ভীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সংস্থাটি মনে করে, নির্বাচন দিবসে অর্জিত ইতিবাচক আস্থা টেকসই করতে হলে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে নিয়মভিত্তিক জবাবদিহিতা, কার্যকর সংস্কার এবং রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।

প্রতিবেদনের শেষাংশে আনফ্রেল মন্তব্য করেছে, নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ও সর্বজনীন অংশগ্রহণের পরিবেশকে প্রভাবিত করেছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার সাহস ও অভিজ্ঞতা কমিশনের রয়েছে।

স্থানীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, রক্তপাতহীন সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে ইসির চেষ্টার কোনো ঘাটতি থাকবে না। তবে এক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলসহ সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। ভোট দিয়ে ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ঘরে ফিরতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করা হবে।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ