তারুণ্যের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে দক্ষ ও যোগ্য জনশক্তি গড়ে তোলা হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান, যেখানে তারুণ্যের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে দক্ষ ও যোগ্য জনশক্তি গড়ে তোলা হবে। এমন একটি সমাজ বিনির্মাণ করা হবে, যেখানে তরুণদের মধ্যে পারিবারিক শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ এবং সামাজিক শিষ্টাচারের বিকাশ ঘটবে। তিনি একটি শিক্ষা ব্যবস্থার কথা বলেছেন, যেখানে শিল্পখাত ও অ্যাকাডেমিয়ার মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার হবে, ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিক কোলাবরেশনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সেই শিক্ষা ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হবে প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও যোগ্যতা অর্জনের মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থানের জন্য উপযুক্ত করে গড়ে তোলা।
বুধবার (২২ জুলাই) রাজধানীর মিরপুরে আন্ডারপ্রিভিলেজড চিলড্রেনস এডুকেশনাল প্রোগ্রামস-ইউসেপ বাংলাদেশ আয়োজিত বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস-২০২৬ অনুষ্ঠানে মাহ্দী আমিন এসব কথা বলেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, শ্রমিকদের অধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। বকেয়া বেতন ও বোনাস নিশ্চিত করা হয়েছে। আমরা এমন একটি সরকারের প্রতিনিধিত্ব করছি, যা দীর্ঘদিন পর সত্যিকার অর্থে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছে। সেই জনগণের একটি বড় অংশ ছিল তরুণ সমাজ।
তিনি বলেন, কর্মসংস্থানের সুযোগ মূলত চারটি ক্ষেত্রে তৈরি হতে পারে—দেশের বেসরকারি খাতে, সরকারি খাতে, দেশের বাইরে এবং স্বনির্ভর বা উদ্যোক্তা হিসেবে। এ চারটি ক্ষেত্রকেই আমাদের সমান গুরুত্ব ও অগ্রাধিকার দিতে হবে। আমরা এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে সবার চিকিৎসক বা প্রকৌশলী হওয়াই একমাত্র লক্ষ্য হবে না। বরং দেশের চাহিদা ও বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং একজন শিক্ষার্থী যে বিষয়ে আগ্রহী ও দক্ষ, সেই বিষয়ে এগিয়ে যাওয়ার জন্য তাকে অবারিত সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে শিক্ষার্থীদের মেধা, মননশীলতা ও সৃজনশীলতার বিকাশের জন্য বিভিন্ন ট্রেডভিত্তিক দক্ষতা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। বাস্তব জীবনের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সেই প্রশিক্ষণের কার্যকর প্রতিফলন প্রত্যক্ষ করেছি। আমরা চাই তিন মাস, ছয় মাস বা অন্যান্য স্বল্পমেয়াদি বিভিন্ন কোর্স ও ট্রেডভিত্তিক প্রশিক্ষণের আরও বিস্তৃতি ঘটুক। এসব প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমাদের শিক্ষার্থীরা যেন বাস্তব কর্মক্ষেত্রের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে পারে, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে অথবা সফল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
মাহদী আমিন বলেন, একইভাবে বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্যও প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। আমরা এমন একটি সমন্বিত ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে চাই, যেখানে টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, এসএসসি ও এইচএসসি ভোকেশনাল শিক্ষা, টিটিসিসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম একটি অভিন্ন কাঠামোর আওতায় আসবে।
তিনি বলেন, আমরা চাই ইউসেপের এই সাফল্য শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে সমগ্র বাংলাদেশের দক্ষতা উন্নয়ন ব্যবস্থার অংশ হয়ে উঠুক। সে লক্ষ্যেই আমরা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই। অন্তর্ভুক্তিমূলক বলতে বুঝি সবার জন্য সমান সুযোগ, ন্যায্যতা এবং মানসম্মত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের নিশ্চয়তা। রাজধানী ঢাকার শিক্ষার্থীরা যে মানের শিক্ষা, দক্ষতা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ পায়, সেই একই সুযোগ দেশের প্রত্যন্ত ও প্রান্তিক অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের কাছেও পৌঁছে দিতে হবে। যেখানে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে, সেখানেও আমরা এমন একটি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যাতে কোনো শিক্ষার্থী শুধু অবস্থানের কারণে পিছিয়ে না থাকে।
তিনি আরও বলেন, আমরা এমন একটি সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছি, যেখানে ধীরে ধীরে বৈষম্য কমে আসবে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে একটি অভিন্ন মানদণ্ড প্রতিষ্ঠিত হবে। সে ক্ষেত্রে আমরা বিশ্বাস করি, বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে পাশে থাকবে। একই সঙ্গে সরকারের ভূমিকা হবে নীতিগত সহায়তা প্রদান করা, আর দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণের মূল চালিকাশক্তি হবে বেসরকারি খাত।
মাহদী আমিন বলেন, আমরা চাই দেশের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকরভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করা হোক এবং তাদের অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে সরকারি নীতিমালা বাস্তবায়ন করা হোক। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আমরা এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করব, ইনশাআল্লাহ।










