আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশ খুলনা জেলার উদ্যোগে কাদিয়ানিদের অপতৎপরতা রোধ করতে এবং তাদেরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবীতে সম্মেলন অনুষ্ঠিত।
আজ সোমবার (২২ আগস্ট) বিকাল ৪টায় জামি’আ ইসলামিয়া মারকাযুল উলূম খুলনা মিলনায়তনে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন জামি’আ ইসলামিয়া মারকাযুল উলূম এর নায়েবে মুহতামিম মাওলানা আব্দুল্লাহ ইয়াহইয়া। তিনি তার আলোচনায় বলেন, মুসলমান হওয়ার জন্য কেবল মৌখিকভাবে কালিমা পড়া যথেষ্ট নয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হেসেবে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা মহিউদ্দিন রবাবানী। তিনি বলেন, বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জাত (সত্তা) সংরক্ষিত থাকলেই নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সকল কর্মকাণ্ড হেফাজত থাকবে। সুতরাং আমাদেরকে হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জাতকে সংরক্ষণের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। তাহলেই আমাদের নামাজ, রোজা, হজ্ব, যাকাত সহ সকল ইসলামী বিধিনিষেধ ঠিক থাকবে। এরই অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশ প্রায় তিন যুগ যাবত বাংলাদেশে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।
তিনি আরো বলেন, আগামী ২৭ আগষ্ট, শনিবার, সকাল দশটায়, ঢাকার গুলিস্তানে কাজী বশির মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশের উদ্যোগে কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবীতে- প্রতিনিধি ও উলামা মাশায়েখ সম্মেলন ডাকা হয়েছে। উক্ত সম্মেলনে খুলনা জেলা প্রতিনিধিদের সতস্ফুর্তভাবে অংশগ্রহণ করে সফল ও সার্থক করার জন্য তিনি উদাত্ত আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সোবহানী বলেন, অনতিবিলম্বে কাদিয়ানীদেরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করতে হবে। কাদিয়ানীরা এদেশে থাকতে পারে, কিন্তু মুসলমান পরিচয়ে নয়। হিন্দু-খৃস্টান-বৈদ্ধরা যেমন এদেশে সংখ্যালঘু অমুসলিম পরিচয়ে বসবাস করছে, কাদিয়ানীরাও তেমন অমুসলিম পরিচয়ে থাকতে পারে। তাদের ধর্মপরিচয় হবে, তারা কাদিয়ানী। মুসলিম নাম নিয়ে তাদের থাকতে দেয়া হবে না। তাদের উপাসনালয়গুলোকে মসজিদ পরিচয় দেয়া যাবে না। তাদেরকে মুসলমানদের কবরস্থানে দাফন করা যাবে না। ইসলামের নামে রচিত তাদের সকল ধর্মগ্রন্থ নিষিদ্ধ করতে হবে। তাদের ছাপানো কুরআন বাজেয়াপ্ত করতে হবে।
মুফতী রাকিবুদ্দীনের সঞ্চালনায় এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের সহকারী মহাসচিব মাওলানা এনামুল হক মূসা, সহকারী মহাসচিব মুফতী কামাল উদ্দীন, প্রচর সম্পাদক মাওলানা রাশেদ বিন নূর, সহকারী প্রচার সম্পাদক মাওলানা আফসার মাহমুদ, মুফতী আব্দুল কাইয়ুম জমাদ্দার প্রমূখ নেতৃবৃন্দ।
সভাপতি তার আলোচনায় খতমে নবুওয়ত কি এবং কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের পরিচয় তুলে ধরেন। মাওলানা রফিকুর রহমান এর মুনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়।











