spot_img
spot_img

আ.লীগ আমলে সংখ্যালঘু নির্যাতন ও ধর্মীয় উগ্রবাদ রাজনৈতিক হাতিয়ার ছিল: হাসনাত

সংখ্যালঘু নির্যাতন ও ধর্মীয় উগ্রবাদ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট রাজনৈতিক হাতিয়ার ছিল বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। তাঁর দাবি, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এ ধরনের সাজানো নাশকতা উল্লেখযোগ্যভাবে বন্ধ হয়ে গেছে এবং দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপিত হচ্ছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

হাসনাত আব্দুল্লাহ লেখেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার দেশে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রচার চালাত যে, তারা ছাড়া বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা নিরাপদ নয় এবং তাদের অনুপস্থিতিতে দেশ চরমপন্থার দিকে ধাবিত হবে। এ উদ্দেশ্যে একদিকে ‘জঙ্গিবাদের নাটক’ সাজানো হতো, অন্যদিকে সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর মাধ্যমে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে প্রতিমা ভাঙচুর ও নাশকতা ঘটিয়ে অন্য পক্ষের ওপর দায় চাপানো হতো বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, এর মাধ্যমে একদিকে হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে কৃত্রিম বিভেদ সৃষ্টি করা হতো, অন্যদিকে নিজেদের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ‘একমাত্র রক্ষাকর্তা’ হিসেবে তুলে ধরার রাজনীতি বজায় রাখা হতো।

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও আওয়ামী লীগ সরকারের বিদায়ের পর থেকে সেই ধরনের সাজানো নাশকতা উল্লেখযোগ্যভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা বাদে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন করছেন। এটিকে তিনি বাংলাদেশের অন্তর্নিহিত ধর্মীয় সম্প্রীতির বহিঃপ্রকাশ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম বড় অর্জন বলে মন্তব্য করেন।

দেশের সামগ্রিক অপরাধ ও অস্থিরতাকে শুধু সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার প্রবণতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, সমাজে বিরাজমান চাঁদাবাজি, ব্যবসা ও জমি দখলের মতো অপরাধ মূলত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট। এ ধরনের অপরাজনীতি, প্রশাসনিক ও পেশিশক্তির অপব্যবহারের শিকার হিন্দু বা মুসলমান, সব সম্প্রদায়ের সাধারণ ও ক্ষমতাহীন নাগরিকরা হয়ে থাকেন।

এনসিপির এই নেতা অভিযোগ করেন, বিগত সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা না করে এসব রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অপরাধের মধ্য থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঘটনাগুলো বেছে বেছে প্রচার করত অথবা নিজেরাই কৃত্রিম পরিস্থিতি তৈরি করে ‘সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বয়ান’ প্রতিষ্ঠা করত। বর্তমান বাস্তবতায় সেই ‘সংখ্যালঘু রাজনীতির’ মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আইনের শাসন ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করাকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার মূল পথ উল্লেখ করে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, যেকোনো অপরাধের যথাযথ বিচার নিশ্চিত করা এবং সব নাগরিককে পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা দেওয়ার মাধ্যমেই সমাজ থেকে সাম্প্রদায়িক অস্থিরতার বিষবাষ্প স্থায়ীভাবে দূর করা সম্ভব।

তিনি বৈষম্যহীন ও সৌহার্দ্যপূর্ণ নতুন বাংলাদেশের অর্জন রক্ষার আহ্বান জানান।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ