এই রাষ্ট্রে ধর্ষণ, গণহত্যা ও শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার হচ্ছে না, অথচ প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কেউ কিছু বললে বা গালি দিলে দ্রুত বিচার হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল জাবের।
তিনি বলেন, এই রাষ্ট্রে কোনো ধর্ষণের বিচার হয় না, শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার হয় না, জুলাই গণহত্যার বিচার হয় না, পিলখানা হত্যার বিচার হয় না, শাপলা গণহত্যার বিচার হয় না। এই রাষ্ট্রে শুধুমাত্র একটি বিচারিক ব্যবস্থাই টিকে আছে, সেটা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কেউ কিছু বলল কি না বা কোনো গালি দিল কি না।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
জাবের বলেন, সরকার নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় এসেছে সাত মাস ১০ দিন। এরই মধ্যে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় রয়েছে। এরপরও সরকার এখনো ‘হানিমুন মুড’ থেকে বের হতে পারেনি।
প্রধানমন্ত্রীকে গালি দেওয়ার অভিযোগে মানহানির মামলার পরিবর্তে এখন সন্ত্রাসী মামলা দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। জাবের বলেন, এটি আইনের স্পষ্ট অপব্যবহার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ।
জাবের আরও অভিযোগ করেন, পতিত স্বৈরাচারের সহযোগী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্য বর্তমান সরকারকে ব্যর্থ করার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত নয়জন শিশু নিখোঁজ হওয়ার সংবাদ তাদের কাছে এসেছে। বিভিন্ন স্থানে শিশুদের লাশ পাওয়া যাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
দেশে ধর্ষণের ঘটনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক বলেন, বর্তমান সময়ে ধর্ষণ উৎসবে পরিণত হয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ এক ব্যক্তির মেয়েকে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করেছে বলেও দাবি করেন তিনি। বিচার না পাওয়া এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির ভয়ে ওই তরুণী আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
জাবের বলেন, কারণ সে জানে এই রাষ্ট্রে কোনো বিচার পাওয়া যায় না। জনগণকে আইন দিয়ে কিংবা কারাগারে বন্দি করে তাদের মুখ বন্ধ রাখা যায় না। আওয়ামী লীগ কারাগারগুলো পূর্ণ করেও ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি। একইভাবে মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করে কোনো সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না।
তিনি আরও বলেন, জনগণকে আইন দিয়ে বা জেলে পুরে মুখ বন্ধ রাখা যায় না। আওয়ামী লীগ কারাগারগুলো ভরিয়েও ক্ষমতায় টিকতে পারেনি। সুতরাং মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করে বেশিদিন ক্ষমতায় টিকে থাকা যাবে না।











