শনিবার | ২৪ জানুয়ারি | ২০২৬
spot_img

ভোট কেন্দ্রগুলোতে ফজরের নামাজ পড়বেন আপনারা: হাসনাত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, আগামী ১২ তারিখে আপনারা প্রত্যেকে ভোটকেন্দ্রগুলোতে গিয়ে ফজরের নামাজ পড়বেন। আপনারা সবাই ভোটের ফলাফল নিয়ে বাড়িতে আসবেন।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে বাউফলে পটুয়াখালী-২ আসনে জামায়াত মনোনীত ও ১০ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের নির্বাচনি সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের পক্ষে ভোট চেয়ে তিনি বলেন, মাসুদ ভাই শুধু বাউফলের না, তিনি হচ্ছেন সারা বাংলাদেশের সম্পদ। তিনি আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধের শক্তি, হাদি ভাইয়ের উত্তরসূরি। এই ১২ তারিখ মাসুদ ভাইকে জয়ী করবেন, ইনশাল্লাহ।

হাসনাত বলেন, অনেকেই বলছে বাড়ি থেকে প্রয়োজনে ব্যালট ছাপাইয়া নিয়া আইসা নাকি ভোট দেবে। এই তরুণ প্রজন্ম কি বসে থাকবে? তরুণ প্রজন্ম হাসিনাকে ডরায় নাই, হাসিনার কামান-পেট্রোলকে দুই টাকার দাম দেয় নাই। এখন যদি কেউ মনে করে, এই তরুণ প্রজন্মকে আবার কামান দিয়ে, আবার পুলিশ দিয়ে, মিলিটারি দিয়ে আবার দমন করা হবে, তাহলে তারা ইতিহাসের ভুল প্রান্তে অবস্থান করছে।

তিনি বলেন, কোনো চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজের হাতে ভোটকেন্দ্রগুলো ছেড়ে দেওয়া যাবে না। আমার মায়েরা যারা আছেন, সকালবেলায় ভোটকেন্দ্রে চলে যাবেন। আপনাদেরকে যারা ভয় দেখাতে আসে তারা অলরেডি ভয় পেয়ে গেছে। এই কারণেই আপনাদেরকে ভয় দেখাতে আসে। আমরা আমাদের মায়েদেরকে নিয়ে ভোট কেন্দ্রগুলো পাহারা দেব।

ভোটের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি আরও বলেন, কেউ যদি আমাদের বিরুদ্ধেও ভোট দিতে চায়, সে যেন নিরাপদে ভোট দিতে পারে সেই ব্যবস্থাও আমরা করব।

তরুণ প্রজন্মের ত্যাগ সম্পর্কে হাসনাত বলেন, প্রিয় বাউফলবাসী, এই তরুণ প্রজন্মের রক্তকে বারবার ব্যবহার করে শাসক গোষ্ঠী ক্ষমতায় গেছে, তরুণ প্রজন্মের রক্ত, রক্তমাখা ক্ষমতা, রক্তমাখা গদি এই শাসক প্রজন্মের পছন্দের। আমরা এতদিন শুধু রক্ত দিয়েছি, এখন থেকে আমরা পলিসি নির্ধারণে অংশগ্রহণ করব।

অতীতের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, অতীতে যেটা হতো, সংসদ সদস্যরা সংসদে গিয়ে চুরি করতেন, টেন্ডারবাজ হতেন, লাইসেন্স নিজের নামে নিয়ে চুরি করতেন। আর এবার দেখলাম, একটা দলের ৪৫ জন চোরকে আবার সংসদে ঢুকাচ্ছে। সংসদে ঢোকার আগেই তারা ডাকাত হয়ে যাচ্ছে। আবার ইলেকশন কমিশন হেসে হেসে বলছে, মনে কষ্ট নিয়েই তাদের যেতে (নমিনেশন বৈধতা) দিলাম। তরুণ প্রজন্মের রক্ত দিয়ে এই চোরদের সেইফ এক্সিট দিয়ে সংসদে পাঠানোর জন্য আপনাদের ইলেকশন কমিশনে বসানো হয়নি।

তিনি আরও আরও বলেন, আমাদের অতীত প্রজন্ম যে ভুল করে গেছে, সেই ভুলের দায়ভার আমরা তরুণ প্রজন্ম বারবার দিতে পারব না। ইতিহাসে প্রতিবার আমাদের তরুণ প্রজন্ম ভুল প্রান্তে অংশ নিয়েছে এবং সেটির দায় আমাদের রক্ত দিয়ে শোধ করতে হয়েছে। আমাদের আগামীর বাংলাদেশ হবে সমতার বাংলাদেশ, আগামীর বাংলাদেশ হবে মানবিক মর্যাদার বাংলাদেশ। যেই বাংলাদেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, যেই বাংলাদেশের মত প্রকাশের জন্য আপনাকে ক্রসফায়ার দেওয়া হবে না, যেই বাংলাদেশে অধিকার আদায়ের জন্য আপনাকে হিন্দু-মুসলিম, বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান পরিচয় দিতে হবে না। আপনার কেবল পরিচয় আপনি বাংলাদেশি।

প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, ২০১৪ ও ১৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিনা ভোটে ভারতের সহযোগিতায় ক্ষমতায় গিয়েছিল। কীভাবে কবর থেকে এসে মানুষ ভোট দিয়ে গিয়েছিল সেটি আমরা ২০১৮ সালে দেখেছি। ২০২৪ সালে দেখেছি, আমি ডামি নির্বাচন। তখন আমাদের মাথা হেট হয়েছিল। প্রশাসনকে ব্যবহার করে ব্যালট বাক্স ছিনতাই করে ক্ষমতাকে তারা নিয়ন্ত্রণ ও দখল করেছিল। শোনো প্রশাসন, ২০২৪ সাল থেকে যদি আপনারা শিক্ষা না নেন, নির্বাচনে যদি আগের ছকে ফিরে যান, এই তরুণ প্রজন্ম আপনাদেরকে ক্ষমা করবে না।

spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ