spot_img

গাজ্জায় ৩১৫ দিনে ৪,৩৭৯ বার ‘যুদ্ধবিরতি’ লঙ্ঘন ইসরায়েলের: নিহত ১২৮৬

গাজ্জায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর গত ৩১৫ দিনে অন্তত ৪ হাজার ৩৭৯ বার চুক্তি লঙ্ঘন করেছে দখলদার ইসরায়েল। এসব লঙ্ঘনের ঘটনায় ১ হাজার ২৮৬ ফিলিস্তিনি শহিদ এবং আরও ৪ হাজার ২৫৭ জন আহত হয়েছেন।

সোমবার (২৪ আগস্ট) গাজ্জার সরকারি তথ্য দপ্তর বা গভর্নমেন্ট মিডিয়া অফিসের প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার সময়ে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী ১৮০ ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে। একই সময়ে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৮১৩ জন শহিদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও ৮ হাজারের বেশি শহিদের মরদেহ ধ্বংস হওয়া বিভিন্ন ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে।

গাজ্জায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের ক্ষেত্রেও যুদ্ধবিরতি চুক্তি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছে সরকারি তথ্য দপ্তর। চুক্তি অনুযায়ী এ সময়ের মধ্যে ১ লাখ ৮৯ হাজার ত্রাণবাহী ট্রাক গাজ্জায় প্রবেশের কথা ছিল। কিন্তু প্রবেশ করেছে মাত্র ৬৬ হাজার ৬০৭টি ট্রাক। অর্থাৎ নির্ধারিত সহায়তার মাত্র ৩৫ শতাংশ প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

একইভাবে রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং দিয়ে ২৯ হাজার ৮০০ জনের যাতায়াতের সুযোগ দেওয়ার কথা থাকলেও মাত্র ১১ হাজার ৭৫৯ জনকে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে চুক্তি বাস্তবায়নের হার মাত্র ৩৯ শতাংশ।

এদিকে গাজ্জার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় আরও ২ ফিলিস্তিনি শহিদ এবং ৩২ জন আহত হয়েছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হিসাবে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় শহিদের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ২৮৮ এবং আহতের সংখ্যা ৪ হাজার ২৯০ জনে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে দখলদার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তাদের সাম্প্রতিক হামলায় হামাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজ্জা উপত্যকায় দখলদার ইসরায়েলের চালানো গণহত্যা ও হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ৭৩ হাজার ৪২২ ফিলিস্তিনি শহিদ হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪০১ জন। গাজ্জার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ