ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী বক্তব্যকে সমর্থন করায় কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির তীব্র সমালোচনা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই। তিনি অভিযোগ করেন, ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দেওয়ার হুমকির নিন্দা না করে কানাডার প্রধানমন্ত্রী ওয়াশিংটনকে সন্তুষ্ট করার পথ বেছে নিয়েছেন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বাঘেই লেখেন, কানাডার প্রধানমন্ত্রী আমেরিকার প্রকাশ্য আগ্রাসন ও যুদ্ধংদেহী বক্তব্যের নিন্দা না করে ওয়াশিংটনকে সন্তুষ্ট করার পথ বেছে নিয়েছেন। ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দেওয়ার হুমকিকে তিনি কেবল ‘যুদ্ধের ভাষায় কথা বলা’ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।
ইরানের এই মুখপাত্র বলেন, মার্ক কার্নিকে বুঝতে হবে, সময় এতটাই নির্মম যে বিভ্রম ও ভণ্ডামির আশ্রয় চিরকাল টিকে থাকতে পারে না।
তিনি বলেন, একদিন অবশ্যই এমন সময় আসবে, যখন যারা আমেরিকার দাদাগিরির দীর্ঘ ছায়ায় আশ্রয় নিয়েছিল, তারা সত্যের সামনে উন্মুক্ত হয়ে দাঁড়াবে। তারা মনে করেছিল, শক্তিধরদের ভাষা অনুকরণ করলে ক্ষমতার থাবা থেকে নিজেদের রক্ষা করা যাবে। কিন্তু তারা অনেক দেরিতে বুঝতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, বাস্তবতা থেকে চোখ ফিরিয়ে নেওয়া এবং নিজেদের মর্যাদা ও আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে কোনো মুক্তি পাওয়া যায় না। এর মাধ্যমে শুধু তারা নিজেদের সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে ফেলবে এবং সেই শক্তির সামনে একেবারেই অসহায় হয়ে পড়বে, যে শক্তি তাদের বশ্যতা স্বীকার করতে বাধ্য করতে চায়।
বাঘেই বলেন, হয়তো সেই হিসাবের মুহূর্তে তারা ইরানের দিকে তাকাবে এবং অবশেষে বিষয়টি বুঝতে পারবে। তারা দেখতে পাবে, যে জাতিকে একসময় সাম্রাজ্যগুলোর সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে চূর্ণ করার চেষ্টা করা হয়েছিল, সেই জাতিই ছিল একটি পবিত্র শিখার একমাত্র প্রহরী।
তিনি আরও বলেন, জবরদস্তির বিরুদ্ধে অবিচল দাঁড়িয়ে তারা অন্ধকারের মধ্যে একটি মশাল জ্বালিয়ে রেখেছিল। সেই মশাল যদি নিভে যায়, তাহলে মানবতার কাছে নগ্ন শক্তির শীতল আলিঙ্গন ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। তখন সভ্যতা ও মানবিকতার যুক্তিনির্ভর বেদিগুলো ক্ষমতার নির্মম যুক্তির নিচে চাপা পড়ে যাবে।
সূত্র : তাসনিম নিউজ এজেন্সি











