ইনসাফ | শেখ আশরাফুল ইসলাম
আমরা শান্তি চাই! পশ্চিমা নেতাদের সাথে আমরা কথা বলতে চেয়েছিলাম। স্পষ্টতই মিনস্ক চুক্তি ভঙ্গ হয়েছে। সেই চুক্তি অনুসারে, আমরা ইউক্রেনকে ডনবাসের প্রজাতন্ত্রগুলিকে পুনরায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছি।
শুক্রবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমিরি পুতিন তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে এসব কথা বলেন।
পুতিন বলেন, আমরা তো ইউরোপ এবং আমেরিকার সাথে আলোচনায় বসতে চেয়েছিলাম। এই ব্যাপারে আমাদের তৎপরতাও বেশ স্পষ্ট। কিন্তু তারা আমাদের অবহেলা করেছে।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রত্যক্ষভাবে পশ্চিমারা ইউক্রেনীয় সরকারকে সমর্থন করেছিল। রাশিয়ার সাথে যুদ্ধে ঠেলে দিয়েছিল। আমরা তখন ইউক্রেনের প্রতিবেশী দেশগুলোকে বলেছি অস্ত্র সরবার বন্ধ করতে। কারণ এই অস্ত্রগুলি ডনবাসে বেসামরিকদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়।
রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, আমাদের মতামতকে গুরুত্ব না দিয়ে উপেক্ষা করা হয়েছে। আমাদের সীমান্তে তারা একটি ন্যাটো ব্রিজহেড তৈরি করেছিল। আমরা ক্রমশ সংকোচিত হয়ে পড়ছিলাম। আমরা যা করিনি, সেটার জন্যই আমাদের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এর ফলে আমরা শ্বাসরোদ্ধ হয়ে যাচ্ছিলাম।
ডনবাসের যুদ্ধে নিজের সক্রিয়তাকে অস্বিকার করে তিনি বলেন, আমরা ক্রিমিয়াকে সংযুক্ত করিনি। সেখানে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল তাই এটি আমাদের কাছে ফিরে এসেছে। ডনবাসের যুদ্ধে আমাদের কোন ভূমিকাই ছিল না। এটি ছিল মূলত ইউক্রেনের গৃহযুদ্ধ। কিন্তু এখন ইউক্রেন রাশিয়া কর্তৃক স্বীকৃত ডনবাস প্রজাতন্ত্রের উপর আক্রমণ শুরু করেছে এবং ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি একটি আন্তর্জাতিক (ন্যাটো) ফোরামের মাধ্যমে রাশিয়াকে হুমকি দেওয়ার জন্য পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
তিন ফেসবুক পোস্টে আরও বলেন, ইউক্রেনীয় জনগণ রাশিয়ানদের জন্য ভ্রাতৃত্বপূর্ণ মানুষ, কিন্তু তাদের নেতৃত্ব এবং মার্কিন আমেরিকা তাদের অতল গহ্বরে নিয়ে যায়, রাশিয়ার প্রতি ঘৃণা প্রচার করে। আমরা ইউক্রেনের ভ্রাতৃপ্রতীম জনগণকে মুক্ত করতে সাহায্য করব। ইউক্রেন স্বাধীন হবে।
আমাদের অপারেশন হল শান্তিরক্ষা এবং এর লক্ষ্য শুধুমাত্র প্রতিবেশী দেশের নিরস্ত্রীকরণ। ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের নাগরিকদের কেউ যেন কষ্ট না পায় সেদিকে আমাদের মূল লক্ষ থাকবে। আমরা যুদ্ধ চাই না, আমরা শান্তির পক্ষে! কিন্তু আমাদের জোরপূর্বক শান্তিপ্রতিষ্ঠা করতে হবে।











