আফগানিস্তানের ভূখণ্ডে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক হামলার প্রেক্ষাপটে ইমারাতে ইসলামিয়ার মুখপাত্র মাওলানা জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, নিজেদের ভূমি রক্ষায় আত্মরক্ষার অধিকার পালনে কোনো দেশ, কর্তৃপক্ষ বা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের অনুমতির প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, আফগানিস্তানের ওপর জুলুম হয়েছে এবং সীমানা লঙ্ঘন করা হয়েছে, তাই দেশ রক্ষাকে তারা মৌলিক ও ধর্মীয় অধিকার মনে করে।
সম্প্রতি আফগানিস্তানের সংবাদমাধ্যম ‘মেমার টিভি’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাওলানা জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এসব কথা বলেন।
পাকিস্তানের আগ্রাসনের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে মাওলানা জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ পুরো পাকিস্তানকে দায়ী না করে একটি নির্দিষ্ট সামরিক চক্রের দিকে ইঙ্গিত করেন। তিনি বলেন, পাকিস্তানের ভেতরে থাকা একটি বিশেষ সামরিক গোষ্ঠী সচেতনভাবে এই অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা তৈরি করার পথ বেছে নিয়েছে। তার দাবি, এই চক্রটি তাদের “বিদেশি প্রভুদের” কাছ থেকে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির মিশন গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে অঞ্চলকে আরও অনিরাপদ করে তোলা হচ্ছে, এবং চূড়ান্ত ভুক্তভোগী হিসেবে পাকিস্তানের সাধারণ জনগণকেই ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
অর্থনৈতিক নির্ভরতা এবং সীমান্ত বন্ধ থাকার প্রসঙ্গে মাওলানা জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, গত ৩ থেকে ৪ মাস ধরে পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য পথ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকলেও আফগানিস্তান থেমে নেই। তিনি জানান, তারা অন্যান্য দেশের মাধ্যমে নিজেদের অর্থনৈতিক চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হচ্ছে। তিনি বলেন, আফগানিস্তান কোনো এক দিকের ওপর নির্ভরশীল নয়। জাতীয় আত্মমর্যাদা, সার্বভৌমত্ব এবং মর্যাদার প্রশ্নে তারা কারও কাছে মাথা নত করবে না, কোনো চাপের কাছে নতিস্বীকারও করবে না।
পাকিস্তানের আগ্রাসনের পাল্টা জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অনুমতির প্রসঙ্গ তুলে মাওলানা জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ আত্মরক্ষার অধিকারের বিষয়টি স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, আফগানিস্তানের ওপর জুলুম করা হয়েছে এবং সীমান্ত লঙ্ঘন করা হয়েছে, তাই নিজেদের রক্ষা করাকে তারা মৌলিক ও ধর্মীয় অধিকার হিসেবে দেখে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যখন শরিয়াহ আত্মরক্ষার অনুমতি দেয়, তখন দেশ রক্ষার এই পবিত্র দায়িত্ব পালনের জন্য অন্য কোনো দেশ, কর্তৃপক্ষ বা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের অনুমতির প্রয়োজন নেই।
সূত্র : হুরিয়াত রেডিও ও মেমার টিভি












